পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিন দায়িত্বগুলো পালন করেন একজন মা। মায়ের কাজের শেষ নেই। তবুও তার কাজ যেন কারোর চোখে পড়ে না। মা নিঃস্বার্থভাবে পরিবার ও সন্তানদের জন্য কাজ করেন। তার কাজের মাঝে কোনো বিরতি নেই। এমনকি কারোর প্রতি কোনো অভিযোগও তার থাকে না। সন্তানকে লালন পালন করা, যত্ন-আত্তি করা মায়ের প্রধান কাজ। শিশু সন্তানেরা মাকে অনেক জ্বালায়।

ঘুমন্ত শিশু; Source: The Conversation

কেননা তারা বোঝে না কোন কাজগুলো মাকে কষ্ট দেয়। শিশুরা রাতের বেলা মাকে অনেক জ্বালায়। তারা ঘুমাতে চায় না এবং জোরে জোরে কান্না করে। সারাদিন পরিশ্রমের পরে মা যদি রাতে ঘুমাতে না পারে তাহলে কষ্টের শেষ থাকে না। কারণ পরদিন আবার তাকে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়। তাই বিশ্রামহীন ও অস্থির শিশুকে ঘুম পাড়ানো জরুরি। তবে অস্থির শিশুকে ঘুম পাড়ানোর জন্য জানতে হবে কিছু কৌশল। জেনে নিন, যেভাবে বিশ্রামহীন ও অস্থির শিশুকে ঘুম পাড়াবেন তা সম্পর্কে।

শিশুর কান্নার কারণ খুঁজে বের করুন

শিশুরা অনেক সময় ঘুম পেলে কিংবা ক্ষুধা পেলে কান্না করে। ঘুম পেলে শিশুর চোখ ছোট হয়ে যায়। যখন শিশুর ঘুম পাবে তখন তাকে ঘুমাতে নিয়ে যাওয়া উচিত। নয়তো পরে সে অস্থির হয়ে উঠবে এবং আপনাকে জ্বালাবে। শিশু কেন কান্না করছে তার উপযুক্ত কারণ খুঁজে বের করুন।

শিশুর কান্না; Source: tesco-baby.com

তার ক্ষুধা পেলে তাকে খেতে দিন, ঘুম পেলে তাকে ঘুমাতে নিয়ে যান, তার বিছানায় অস্বস্তি সৃষ্টিকারী কোনো সমস্যা থাকলে তা দূর করে দিন। তাহলে শিশু নীরব হয়ে যাবে এবং আপনারও কষ্ট কম হবে।

পারিপার্শ্বিকতা

ছোট শিশু দিন এবং রাতের মধ্যে পার্থক্য বোঝে না। কারণ সে সবসময় ঘরের ভেতর একই আলো দেখতে পায়। তাই শিশুকে দিনের আলোর কাছে মাঝে মাঝে নিয়ে যান। তাকে বাইরে নিয়ে যান। দিন ও রাতের মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরী। নয়তো শিশু কখন ঘুমাবে আর কখন ঘুমাবে না এসব বিষয়গুলো বুঝে উঠতে পারবে না।

শিশুর ঘুমের সময় আপনি নির্ধারণ করে দিন। কারণ সময় নির্ধারণ করলে সে রোজ ঐ একই সময় ঘুমিয়ে যাবে। আপনাকে বেশি জ্বালাতন করবে না।

শান্ত পরিবেশে শিশুর ঘুম; Source: Kidspot

শিশুর কক্ষ ও তার চারপাশ যেন শান্ত ও নীরব থাকে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। শিশু যে কক্ষে ঘুমায় বা ঘুমাচ্ছে সে কক্ষে যদি উচ্চস্বরে কেউ গান শোনে, সিনেমা দেখে কিংবা জোরে কথা বলে তাহলে তার ঘুম ভেঙে যাবে। আর ঘুম ভেঙে গেলে শিশু কান্না করবে, জ্বালাবে এবং পুনরায় ঘুম পাড়ানো কষ্টকর হবে।

ঘুমের রুটিন পরিবর্তন করবেন না

হঠাৎ করে ঘুমের রুটিন পরিবর্তন করলে শিশুরা
আর ঘুমাতে চায় না। সুনির্দিষ্ট সময় শিশুকে ঘুম পাড়ালে সেটা তার অভ্যাসে পরিণত হয়।
তাই রোজ ঐ নির্দিষ্ট সময়ে সে নিজ থেকে ঘুমিয়ে যাবে। তাছাড়া শিশুকে রোজ রোজ ভিন্ন কক্ষে
ঘুমাতে নিয়ে যাবেন না। এতে তার ঘুমের সমস্যা হতে পারে। প্রতিদিন একই কক্ষে ঘুম
পাড়ান। যদি শিশু খেলনা বা পুতুল পছন্দ করে তাহলে তার পাশে খেলনা কিংবা পুতুল রেখে
দিন।

জেগে ওঠার কারণ বের করুন

মাঝরাতে হঠাৎ যদি আপনার সন্তান ঘুম থেকে জেগে ওঠে এবং কান্না জুড়ে দেয় তাহলে বিচলিত হবেন না।  সে কেন জেগে উঠেছে তার কারণ বের করুন। অনেক সময় বিছানা ভিজিয়ে ফেলার কারণে তার ঘুম ভেঙে যায় আবার কখনো বা প্রচণ্ড ক্ষুধা পেলে ঘুম ভেঙে যায়।

ক্ষুধার্ত শিশু; Source: pediacare.com

কারণ বের করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে দ্রুত সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে। তবে মা হিসেবে আপনি রোজ ঘুমানোর আগে শিশুর ন্যাপকিন বা ডায়াপার পরিবর্তন করে ঘুমান যেন মাঝরাতে হঠাৎ করে সে জেগে না ওঠে।

ঘুম ও খাওয়ার রুটিন নির্ধারণ

আপনি আপনার সন্তানের ঘুম ও খাওয়ার রুটিন নির্ধারণ করে দিন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়গুলোতে শিশুকে খাওয়ালে সে বুঝবে এ সময়গুলোই খাওয়ার সময়। তেমনি রোজ যদি একই সময় তাকে ঘুম পাড়ান তাহলে সে বুঝবে ঐ সময়ে ঘুমাতে হয়। সে একটি নিয়মের মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে বড় হতে থাকবে।

শিশুর গোসল; Source: Raising Children Network

দিনের বেলা ঘুমানোর আগে শিশুকে উষ্ণ জলে গোসল করাতে পারেন। গোসল করালে তার শরীর প্রশান্ত হবে এবং কিছুক্ষণ পর সে ঘুমিয়ে যাবে।

ঘুমানোর কিছু সিগন্যাল

শিশুদের ঘুম পাড়ানোর আরো কিছু সহজ কৌশল আছে।
যেমন তারা ঘুম পাড়ানির গান শুনতে শুনতে ঘুমাতে ভালবাসে, পছন্দের গান বা মিউজিক
শুনে ঘুমাত ভালবাসে কিংবা কবিতা শুনতে শুনতে ঘুমাতে ভালবাসে। আপনার সন্তানকে
বিছানায় শোয়ানোর পর মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে ঘুম পাড়ানোর গান শুনাতে পারেন কিংবা
কবিতা শুনাতে পারেন। বুক ও পিঠে আলতো করে চাপড় দিতে পারেন। এভাবে ধীরে ধীরে সে
ঘুমিয়ে যাবে।

দোলানোর মাধ্যমে ঘুম পাড়ানোর অভ্যাস ত্যাগ
করুন

আপনার অবিশ্রান্ত ও অস্থির সন্তানকে ঘুম
পাড়ানোর জন্য দোলানোর অভ্যাস ত্যাগ করুন। কারণ রোজ রোজ দুলিয়ে ঘুম পাড়ালে এটা তার
অভ্যাসে পরিণত হবে। পরবর্তীতে সে আর দোল খাওয়া ছাড়া ঘুমাতে পারবে না। যা আপনার ও
আপনার পরিবারের জন্য অনেকটা ঝামেলার কাজ হবে।

সঙ্গীর সাহায্য নিন

আপনার পক্ষে যদি সন্তানকে ঘুম পাড়ানো কষ্টকর হয়ে যায় কিংবা রাতে সন্তানের কান্না থামাতে যদি না পারেন তাহলে সঙ্গীর সাহায্য নিন।

পিতার কোলে শিশুর ঘুম; Source: Today’s Parent

সন্তান পালন করা এমন এক দায়িত্ব যা আপনি এবং আপনার সঙ্গীকে মিলে নিতে হবে। দুজনের আলোচনা, সম্মতি ও সমঝোতার ভিত্তিতে দায়িত্ব ভাগ করে নিতে পারেন।

Featured Image Source: WebMD

লেখক – Rikta Richi

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here