একক পিতামাতা হিসেবে সন্তানকে বড় করে তোলা, লালন পালন করা, পড়াশুনা করানো খুব কষ্টকর। একক বাবা মা হয়ে সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করে তোলা বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ একক বাবা কিংবা মা হিসেবে জীবনের অনেক সিদ্ধান্ত একাকি নিতে হয়। জীবন মানেই সংগ্রাম। আর বাঁচতে হলে এই সংগ্রামে লিপ্ত হতে হবে। বাবা ও মা সন্তানের সুখের জন্য অবর্নণীয় ত্যাগ স্বীকার করে। পরিবার সুন্দর ভাবে পরিচালনার জন্যও ত্যাগ স্বীকার করে।

মা ও সন্তানের আঙুল; Source: American Psychological Association

পরিবারে বাবা মা দুজনে মিলে একটি কাজ করলে, যেকোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা সহজ ভাবে করা যায়। অনেক প্রতিকূল পথ একসাথে পাড়ি দেয়া যায়। যদি বাবা হীন মাকে কিংবা মা হীন বাবাকে সংসার চালাতে হয়, সন্তানকে লালন পালন করতে হয় সেটি অনেক কষ্টকর। একক মা বাবাকে অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। এর কিছু ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক রয়েছে। জেনে নিন একক বাবা মায়ের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক সম্পর্কে।

একক অভিভাবকত্ব

একক অভিভাবকত্ব হলো সন্তানকে লালন পালন করা, পড়াশুনা করানো, বড় করে তুলতে বাবা কিংবা মায়ের একক দায়িত্ব গ্রহণ। একক অভিভাবকত্ব ধারণাটি তখনই কার্যকর হয় যখন সঙ্গীবিহীন অর্থাৎ স্ত্রী বিহীন স্বামী কিংবা স্বামী বিহীন স্ত্রী যখন সন্তানকে লালন পালন করে। এক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রী দুজনের দায়িত্ব পড়ে একজনের উপর।

মা ও সন্তানের আনন্দঘন মূহুর্ত; Source: vuelio.com

একক বাবাকে বাইরের অফিস সামলানোর পাশাপাশি ঘরের সার্বিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। একক মাকে ঘর সামলানোর পাশাপাশি সন্তানের ভরণপোষণ ও যাবতীয় খরচ মেটানোর জন্য বাইরেও কাজ করতে হয়। সন্তানের জীবনের যাবতীয় মঙ্গলের জন্য সকল সিদ্ধান্ত একক বাবা কিংবা মাকে নিতে হয়।

একক পিতা মাতার
সমস্যা

স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে কিংবা স্বামী বা স্ত্রীর কেউ একজন মারা গেলে সন্তানকে নিয়ে পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে হয়। আর এই বেঁচে থাকাটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জের মতো। একক পিতা কিংবা একক মাতা হিসেবে অনেকগুলো দায়িত্ব অনেক সময় গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। সার্বিক ব্যবস্থার মধ্যে শৃঙ্খলা আনয়ন সম্ভব হয় না। একই সাথে ঘর ও বাইরের সকল কাজে শৃঙ্খলা আনা সম্ভব হয় না। মায়েরা তবু সন্তানের মঙ্গলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করে এবং তারা ধৈর্‍্য্যের শক্তি দিয়ে সবকিছুকে সামলায়।

বাবা ও সন্তানের পথচলা; Source: Mirror

বাবাদের পক্ষ্যে এই ধৈর্য্যের পরিচয় দেয়া অনেকটায় কষ্টকর। সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে অন্য একটি সম্পর্কে জড়ানো কিংবা অন্য কাউকে বিয়ে করাও কষ্টসাধ্য। সেই সাথে অর্থ সংস্থানের পাশাপাশি ঘরের সকল কাজ নিজেকে একা সম্পন্ন করতে হয়। সন্তানকে বাসায় একা রেখে বাইরা যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়। যার ফলে সে একা কোথাও যেতে ভয় পায়। যেহেতু আয় অল্প থাকে, সন্তানের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সার্বিক দিক যথাযথভাবে পূরণ করা কষ্টকর হয়ে যায়।

একক পিতা মাতা
অথবা একক অভিভাবকত্বের ইতিবাচক দিক

একক পিতা মাতা
কিংবা একক অভিভাবকত্বের অনেক নেতিবাচক দিক আছে। তবে অনেক গুলো ইতিবাচক দিকও রয়েছে।
যেমন

মা ও সন্তানের
শক্তিশালী বন্ধন

মা হিসেবে আপনি যদি একা সন্তানকে বড় করে তুলেন, সন্তানের সাথে সময় কাটান, আন্তরিকতা গড়ে তুলেন তাহলে সন্তানের সঙ্গে আপনার শক্তিশালী সম্পর্ক সৃষ্টি হবে। সন্তান আপনাকে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের মানুষ, আপন জন ভাববে।

মা ও সন্তানের শক্তিশালী বন্ধন; Source: Nicole Lapierre Photography

আপনিও সন্তানকে ছাড়া কোনো কিছু ভাবতে পারবেন না। পরস্পরের সাথে পরস্পরের আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠবে।

দায়িত্বশীল আচরণ
ভাগাভাগি

একক মা কিংবা বাবা হিসেবে সন্তানকে বড় করে তুলতে যেসব দায়িত্বশীল আচরণ করতে হয় তা সন্তানের সাথে শেয়ার করা যায়। সন্তান ধীরে ধীরে বড় হওয়ার সাথে সাথে মা কিংবা বাবার কষ্ট বুঝবে। একা সংসার সামলানো এবং অর্থ সংস্থান করা কতটা কষ্টসাধ্য তা বুঝবে।

মা ও মেয়ের কথোপকথন; Source: Northwest Family Services

তাছাড়া সমাজের অন্যান্যদের কাছেও একক পিতা মাতা রোল মডেল হয়ে থাকেন। যৌথ পরিবারে একত্রে অনেকেই বাস করে। যৌথ পরিবারে যদি সন্তান বড় হয় তাহলে বাবা অথবা মায়ের অনেকটা স্বস্থি লাভ হয়।

মা হিসেবে আপনি
যখন সন্তানকে সকল প্রতিকূলতার বিরুদ্ধেও একা লালন পালন করবেন তখন আপনার দুঃখ তার
সাথে শেয়ার করুন এবং সে যদি ঘরের ছোট ছোট কাজ করে তাহলে তার প্রশংসা করুন। তাহলে
সে খুশি হবে।

পরিপক্কতা

একক বাবা মায়ের
কাছে সন্তান লালিত পালিত হলে তারা বাবা মায়ের দুঃখ বোঝে। তারা নিজে নিজে বাবা
মায়ের পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের কথা অনুভব করে। তাদের মধ্যে মানসিক পরিপক্কতা আসে,
আবেগীয় পরিপক্কতা আসে। সকল প্রকার হতাশা ও বিষণ্ণতাকে তারা জয় করে সামনের পথে
এগিয়ে চলে। জীবনে চলার পথের কোনো ভুল সহজে তারা করে না। বাবা মা যেমন তাদের প্রতি
যত্নশীল হয় তেমনই বাবা মায়ের প্রতিও সন্তানেরা যত্নশীল হয়।

দ্বন্দ্বহীন বাবা
মায়ের সম্পর্ক

একক বাবা কিংবা
মা হিসেবে সংসার চালাতে গিয়ে সঙ্গীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব ঘটে না। বাবা মা একসাথে থাকলে
নানা কথায় দ্বন্দ্ব বেধে যায় যার প্রভাব ছেলে মেয়েদের উপর পড়ে। বাবা মায়ের মধ্যে
দ্বন্দ্ব হলে ছেলে মেয়েরা নিজেদেরকে অসহায় ভাবে।

একক পিতা মাতা
অথবা একক অভিভাবকত্বের নেতিবাচক দিক

একক অভিভাবকত্বের
নেতিবাচক দিকগুলো হলো

অর্থনৈতিক সংকট

জীবন সুন্দর ভাবে চালানোর জন্য অর্থের একান্ত প্রয়োজন। বাবা ছাড়া মা যখন সন্তানকে লালন পালন করে তখন তাকে অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে হয়।

চিন্তিত মা; Source: entrepreneur.com.ph

মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে মাকে হিমশিম খেতে হয়। বিনোদন ব্যবস্থা, কোথাও বেড়াতে যাওয়ার ব্যাপারগুলো গৌন হয়ে যায়।

একাকীত্ব

সঙ্গীহীন সমাজ
সংসারে দীর্ঘদিন চলা যায় না। তাছাড়া একা একা পথ চলতে চলতে তার মধ্যে একাকীত্বতা
বাসা বাধে। মানসিকভাবে সে দূর্বল হয়ে পড়ে।

সামাজিক সমস্যা

সন্তানকে নিয়ে সমাজে একা চলতে গেলে অনেকে নেতিবাচক কথা বলে। সমাজের সবার মন মানসিকতা ভালো হয় না। নানা মানুষের নানা কু কথা হজম করতে হয়। ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে সে মহিলাকে সমাজ কখনো ভালো চোখে দেখে না।

Featured Image Source: sandiegofamily.com

লেখক – Rikta Richi

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here