মায়েরা তাদের সন্তানদের খাবার খাওয়ানো নিয়ে খুব চিন্তিত থাকেন। শিশুর যখন ছয় মাস বয়স হয় তখন থেকে মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি শিশুকে পরিপূরক খাবার দিতে হয়। নয়তো শিশু সঠিক পুষ্টি পায় না। ছয় মাস বয়সের পর থেকে এক বছর বয়স পর্যন্ত শিশুকে কঠিন খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।

এ সময়ে তারা ভাত, মাছ, সবজি, ডাল, খিচুড়ি ও বিভিন্ন ফলমূল খেতে পারবে। তবে খাবার যেন বেশি শক্ত না হয় এবং শিশুদের খাওয়ার উপযোগী হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আপনার সন্তানের যদি ছয় মাস হয়, তাহলে তাকে বুকের দুধের পাশাপাশি ভাত, মাছ, ডিম, সবজি, খিচুড়ি ইত্যাদি খাবারগুলো খেতে দিন।

গবেষকরা মনে করেন, শিশুকে যদি এক বছর বয়সের আগে বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবার যেমন শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ানো হয় তাহলে ছয় বছর বয়স পর্যন্ত তার উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পাবে। তাই শিশুকে এক বছর বয়সের আগে বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবার দেওয়া উচিত।

স্ট্রবেরি

আপনার সন্তানের বয়স যদি ছয় মাস বা তার বেশি হয় তাহলে তাকে স্ট্রবেরি খেতে দিন। স্ট্রবেরি মজাদার একটি ফল। তাছাড়া এটি দেখতেও বেশ চমৎকার। শিশুরা স্ট্রবেরি খেতে ভালোবাসে। স্ট্রবেরিতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

স্ট্রবেরি; Source: YouTube

স্ট্রবেরিতে থাকা উপাদান মস্তিষ্কের উন্নয়ন ঘটায়, চোখের উপকার করে, হাড়ের উপকার করে। স্ট্রবেরিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি যা ত্বক ও চুলের জন্য খুব উপকারী। শিশুকে স্ট্রবেরির জুস বানিয়ে খাওয়াতে পারেন অথবা স্ট্রবেরি গালিয়ে নরম করে শিশুর মুখে দিতে পারেন। স্ট্রবেরি ছাড়াও অন্যান্য বেরি যেমন ব্লুবেরি, রাস্পবেরি, চেরি ইত্যাদি শিশুকে খাওয়াতে পারেন।

স্যামন মাছ

স্যামন মাছে রয়েছে উপকারী ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড যা মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। শিশুকে স্যামন মাছ খেতে দিন। স্যামন মাছে রয়েছে উচ্চ পরিমানের ভিটামিন বি, খনিজ পদার্থ, ফ্যাটি এসিড। শিশুকে ছোট থেকে স্যামন মাছ খেতে দিলে তার শরীরের পুষ্টি চাহিদা দূর হবে।

স্যামন মাছ; Source: ChefSteps

এতে শিশুর অভ্যন্তরীণ গঠন মজবুত হবে। স্যামন মাছ হাতে নিয়ে আরো নরম করে শিশুকে খেতে দিন যেন এটি খেতে শিশুর কষ্ট না হয়। শিশুর খাবারে ঝাল দেবেন না। একেবারে ঝালহীন মাছ খেতে দিন। সপ্তাহে অন্তত একবার স্যামন মাছ খেতে দিন।

পিনাট বাটার

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয় শিশুদের বাদাম কিংবা পিনাট বাটার খেতে দিলে অনেক সময় এলার্জি জনিত সমস্যায় পড়তে হয়। তবে এক বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এটা হয় না। শিশুকে কখনো পুরো বাদাম এবং বেশি করে পিনাট বাটার খেতে দেবেন না। দুটোই ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।

পিনাট বাটার; Source: parents.com

পাউরুটি বা টোস্টের সাথে অল্প পিনাট বাটার মাখিয়ে শিশুকে খেতে দিন। আপনার সন্তান যদি অতিরিক্ত ক্লান্ত থাকে এবং অন্যান্য খাবার খেতে না চায় তখন অল্প পরিমাণের পিনাট বাটার খেতে দিতে পারেন। তবে এর আগে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করে নেবেন।

পেঁয়াজ ও রসুন

ছোট শিশুকে পেঁয়াজ ও রসুন দুই-ই খাওয়ানো যায়। পেঁয়াজ ও রসুন শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। পেঁয়াজের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান শিশুর ভেতরের ইনফেকশন দূর করে।

পেঁয়াজ; Source: parents.com

খাবারের সাথে যেমন খিচুড়ির সাথে অল্প পরিমাণের রসুনের পেস্ট করে শিশুকে খাওয়ানো যেতে পারে। এটি খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

ডিম

ডিমে রয়েছে উৎকৃষ্ট পরিমাণের প্রোটিন। ডিম শিশুর মেধা বিকাশে সহায়তা করে, হাড়ের গঠন মজবুত করে। এতে রয়েছে প্রোটিন, উপকারি চর্বি ও ভিটামিন। এতে থাকা ভিটামিন বি১২ খাবারকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সহায়তা করে। এতে থাকা ভিটামিন এ চোখের জন্য উপকারী।

ডিম; Source: onceuponachef.com

ভিটামিন ডি পেশীর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে, ভিটামিন ই ফ্রি র‍্যাডিকেল নষ্ট করে এবং ত্বককে ক্যানসারের হাত থেকে রক্ষা করে। এছাড়া ডিমে রয়েছে আয়রন, জিঙ্ক, ফসফরাস যা স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। নিয়মিত ডিম খেলে শিশুর শরীরে শক্তি সঞ্চিত হবে এবং সহজে শিশু ক্লান্ত হবে না।

আপেল

এক বছর বয়সের আগে আপনার সন্তানকে আপেল খেতে দিন। আপেলে রয়েছে প্রচুর পুষ্টি। অনেকে বলেন নিয়মিত আপেল খেলে নাকি চিকিৎসকের কাছে যেতে হয় না। নিয়মিত আপেল খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। শিশুকে আপেল পেস্ট করে খেতে দিন। এত ছোট শিশু চিবিয়ে খেতে পারবে না।

তাই নরম করে খেতে দেওয়া ভালো। বাজার থেকে আপেল কেনার আগে দেখে কিনুন। অনেকে ফল ভালো রাখার জন্য নানা পদার্থ মেশায়। তাছাড়া বাসায় পনেরো থেকে বিশ মিনিট তা পানিতে ভিজিয়ে তারপর কাটুন যেন কোনো প্রকার বিষাক্ত পদার্থ না থাকে।

পূর্ণ শস্য

শিশুকে শস্য জাতীয় খাবার খাওয়ানোর প্রয়োজন নেই- এ ধারণা ঠিক নয়। শিশুকে সব ধরনের শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়াতে পারেন।

শস্য; Source: parents.com

শস্য জাতীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে ওটস, বাদামী চাল, কুইনো, রাইস নরম করে খেতে দিতে পারেন। এগুলো শরীরে ফাইবার বৃদ্ধি করবে এবং নতুন স্বাদ উপহার দেবে।

বিভিন্ন ফল

ফল শিশুর জন্য উপকারী।
বিভিন্ন ফলে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। শিশুকে মৌসুমী ফল খাওয়ান। আম, কাঁঠাল,
পাকা পেঁপে শিশুকে খেতে দিন। কারণ এগুলোতে রয়েছে অনেক পুষ্টি যা শিশুর মেধাবিকাশে
সহায়তা করবে, শরীর সুস্থ রাখবে। এছাড়া শিশুকে কমলা, আঙুর, তরমুজ, বাঙ্গি ইত্যাদি
ফল খাওয়াতে পারেন।

শাকসবজি

পাতাজাতীয় শাক ও সবজি শিশুকে এক বছর বয়সের আগেই খাওয়াতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের শাক যেমন : পালং শাক, লালশাক শিশুকে খাওয়াতে পারেন। সপ্তাহে অন্তত একদিন শাক দেয়া যেতে পারে। এছাড়া মিষ্টি কুমড়া, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদির মিশেলে সবজি খাওয়াতে পারেন। অথবা সবজি খিচুড়ি রান্না করে শিশুকে খাওয়াতে পারেন।

Featured Image Source: Parents Magazine

লেখক – Rikta Richi

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here