আপনার সন্তান কি
প্রতিদিন ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে থাকে? দিনে বেশ কয়েকবার হালকা ঘুমে মগ্ন হয়ে যায়? তাকে
কি প্রায় ক্লান্ত দেখা যায়? আপনি যদি আপনার সন্তানের মাঝে এ ধরনের উপসর্গ দেখতে
পান তাহলে বুঝবেন তার ঘুমের বিশৃঙ্খলা ঘটছে যার কারণে সে শান্তিমতো ঘুমাতে পারছে না।
রাতে ভালো ঘুম না হলে সারাদিন খুব ক্লান্ত লাগে এবং ঘুম ঘুম পায়।

এলোমেলো ঘুম; Source: Nicholas Chadi MD

কিশোর বয়স ছেলেমেয়েদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়কে ছেলে মেয়েদের বাড়ন্ত বয়স হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ সময়ে তাদের শারীরিক বৃদ্ধি ঘটে। সঠিক অঙ্গবিন্যাস ও হাড় গঠনের পাশাপাশি ক্ষয়জনিত পূরণের জন্য প্রয়োজন সঠিক ঘুম। এ সময়ে অনেক কিশোর কিশোরী হঠাৎ করে বিছানায় শুয়ে পড়ে এবং এলোমেলো ভাবে ঘুমিয়ে পড়ে। কিশোর কিশোরীদের মধ্যে ঘুমের সমস্যা জনিত যেসব সাধারণ বিষয়গুলো লক্ষ্য করা যায় তা হলো

  • সে প্রতিদিন আট ঘন্টা ঘুমায় না। সে খুব কম যেমন পাঁচ থেকে ছয় ঘন্টা ঘুমায়। যার
    ফলে তার রাতের ঘুম পরিপূর্ণ হয় না।
  • অধিকাংশ সময়ে তারা শুয়ে শুয়ে মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। সামাজিক যোগাযোগ
    মাধ্যমে ব্যস্ত থাকে। তাছাড়া নির্দিষ্ট সময় না ঘুমিয়ে তারা কম্পিউটার নিয়ে ব্যস্ত
    থাকে, বিদ্যালয়ের হোমওয়ার্ক করে, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়। এসব কাজে বেশি সময় ব্যয়
    করার কারণে ঘুমের জন্য পর্যাপ্ত সময় তারা খুঁজে পায় না।
  • পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে সে অলস ও নিস্তেজ হয়ে যায় এবং সারাটা দিন তার মন্দ
    কাটে।
  • কিশোর কিশোরীদের ঘুমের সমস্যা হওয়ার আরেকটি বড় কারণ হলো বিদ্যালয় অথবা কলেজ
    কর্তৃক অতিরিক্ত পড়ার চাপ। দেখা যায় তারা এত চাপে থাকে যার ফলে ঘুমাতেও সমস্যা হয়।
    অতিরিক্ত চাপ, দুশ্চিন্তা, হতাশা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।
  • কিশোর কিশোরীরা পড়াশুনা করার জন্য কিংবা রাতে জেগে থাকার জন্য কফি পান করে।
    যার ফলে রাতে সহজে ঘুম আসে না। পরবর্তীতে তার অনেকটা সমস্যায় পড়তে হয় ঘুম নিয়ে।

ঘুমজনিত সমস্যার ধরন

কিশোর কিশোরীদের ঘুমের ব্যাধি অথবা ঘুমজনিত যেসব সমস্যা
হয় তা হলো

ইনসমনিয়া

আপনার সন্তান যখন পর পর বেশ কয়েকদিন ঘুমাতে পারবে না কিংবা দুই তিন ঘন্টা ঘুমানোর পর জেগে ওঠবে তখন তার ঘুমজনিত সমস্যা তথা ইনসমনিয়া দেখা দিবে। আর ইনসমনিয়ে হলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।

ইনসমনিয়া; Source: HomeWord

প্রতিটি মানুষের ক্লান্তি দূর ও সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো উচিত। কিশোর কিশোরীদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য প্রতিদিন আট নয় ঘন্টা ঘুমানো ভালো। তবে যদি রোজ রোজ তারা কম ঘুমায় তাহলে স্বাস্থ্যজনিত অনেক সমস্যায় ভুগবে এবং ধীরে ধীরে দূর্বল হয়ে পড়বে।

নিদ্রাহীনতার আরো কিছু কারণ

তরুণদের চোখে সবসময় রাজ্যের স্বপ্ন থাকে। তারা জীবনে
অনেক সফলতা পেতে চায়, প্রতিষ্ঠা লাভ করতে চায়। তাদের মাথায় ক্রমাগতভাবে এসব
বিষয়গুলো ঘুরতে থাকে যার ফলে সে ঘুমাতে পারে না। তাছাড়া শারীরিক অসুস্থতা, খুব
ঠান্ডা, সর্দি লাগলে মাঝে মাঝে ঘুমের সমস্যা হয়।

অনেক কিশোর কিশোরীরা ঘুমের মধ্যে অজান্তেই অনেক কিছু করে
ফেলে। তারা নিজেরাও জানে না কি হতে যাচ্ছে। অনেক সময় স্বপ্ন দেখতে দেখতে বিভোর হয়ে
যায় এবং উলটা পালটা কাজ করে ফেলে। কেউ কেউ ঘুমের মধ্যে হাঁটে, কেউ মনের অজান্তেই
নাক ডাকে, কেউ কেউ বিছানা ভিজিয়ে ফেলে, কেউ আবার মনের ভুলে বিছানা থেকে পড়ে যায়।
এগুলো কোনো স্থায়ী সমস্যা নয়। তবে এই সমস্যাগুলোর পরিত্রাণ করা জরুরী। অবস্থা
ভয়াবহ হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

অপর্যাপ্ত ঘুম যেভাবে প্রভাবিত করে

আপনার সন্তান যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে না ঘুমায় তাহলে তাদের অনেক সমস্যা হতে পারে। সে কোনোকিছুতে মনোযোগ দিতে পারবে না। সারাক্ষণ দূর্বলতা অনুভব করবে। তার স্মরণশক্তি, মনে রাখার প্রবণতা দিনকে দিন কমতে থাকবে। তার বিদ্যালয়ের বাড়ির কাজ, এসাইনমেন্ট, ফোন নম্বর, গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ভুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিবে। কোনো কাজ করতে গিয়ে সে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা পাবে না।

কিশোরীর রাত জাগা; Source: Anxiety.org

মাঝে মাঝে সে ভুলে যাবে কোথায় কি রেখেছে। এ সমস্যা অনেকের হয়ে থাকে। তাছাড়া অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে আপনার সন্তানের মুখে ব্রণ হতে পারে, চেহারার সারল্য ও দীপ্তিময়তা চলে যেতে পারে, তার আত্মবিশ্বাস দিন দিন কমে যেতে পারে। তাছাড়া পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে চুল পড়ে অনেক। অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে অনেকের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। যার ফলে সে বড়দের সাথে অশোভন আচরণ করে।

ঘুম সংক্রান্ত সমস্যা; Source: dreampadsleep.com

অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে হার্টের সমস্যা, স্ট্রোকের সমস্যা, ডায়াবেটিস সমস্যা, মাইগ্রেনের সমস্যা বেড়ে যায়। কিশোর কিশোরীদের বিষণ্ণতা ও হতাশা বেড়ে যায় নিদ্রাহীনতার কারণে। আবেগের বশবর্তী হয়ে তারা অধিক খাবার খেয়ে ফেলে। কারণ তাদের ক্ষুধার প্রবণতা বেড়ে যায়। যার ফলে অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যায়। আর এটি তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। নিদ্রাহীনতার কারণে অনেকের মুখের রুচি নষ্ট হয়ে যায় এবং শরীর বেশ দূর্বল হয়ে যায়।

কিশোর কিশোরীদের নিদ্রাহীনতার কারণ

কিশোর কিশোরীদের নিদ্রাহীনতার পেছনে যেসব কারণ রয়েছে
সেগুলো হলো

হরমোনাল সমস্যা

বয়ঃসন্ধিকালের হরমোনজনিত সমস্যার কারণে নিদ্রাহীনতা দেখা
যায়। হরমোনের পরিবর্তনের কারণে বা ভারসাময়হীনতা সৃষ্টির কারণে অধিক ঘুমের প্রয়োজন
হয়। কিন্তু কিশোর কিশোরীরা ভোরে ক্লাসে যেতে হবে বলে ঘুমাতে পারে না।

বিদ্যালয় সংক্রান্ত কাজ ও অন্যান্য

কিশোর কিশোরীরা বিদ্যালয়ের হোমওয়ার্ক শেষ করতে করতে অধিক সময় নষ্ট করে। একবার ঘুম চলে গেলে পরে আর ঘুম আসে না।

রাত জেগে টেলিভিশন দেখা; Source: OrissaPOST

তাছাড়া অনেকে টেলিভিশন দেখে, নাটক সিনেমা দেখে নির্দিষ্ট সময় পাড় করে। যার ফলে পরবর্তীতে নিদ্রাহীনতায় ভুগতে হয়।

Featured Image Source: Everyday Health

লেখক – Rikta Richi

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here