সকল বয়সী মানুষকে সর্বদা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা উচিত। শিশুদের ক্ষেত্রেও তাই। নবজাতক শিশুকেও গোসল করানো হয় রোগ-জীবাণু মুক্ত রাখার জন্য। শিশুর শরীর, স্বাস্থ্য ও সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে গোসল করানো হয়। তাছাড়া গোসল করলে শরীর ও মনে প্রশান্তি ফিরে আসে। একধরনের সজীবতা ফিরে আসে।

পূর্ণ গর্ভকাল পেরোনো শিশুর তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সপ্তাহে একদিন গোসল করানো ভালো। পনেরো দিন পর থেকে প্রতিদিন গোসল করানো যাবে। পূর্ণ গর্ভকাল পার না হওয়া শিশুদের প্রতি সপ্তাহে এক দুই দিন গোসল করাতে হবে।

গোসলের সময় কান্না; Source: ParentSavvy

তবে গোসল করানোর সময় শিশুকে অধিক সময় পানিতে না রাখা ভালো। নবজাতকরা অধিক সময় পানিতে থাকতে চায় না। এমনকি বেশি সময় পানিতে থাকলে তাদের ঠাণ্ডা লেগে যায়। তবে অধিকাংশ শিশুরা গোসল করানোর সময় কান্না করে। কিন্তু কেন কান্না করে ভেবে দেখেছেন কি? শিশুর শরীর যেহেতু কোমল সেহেতু তাদের গোসল করানোর সময় অনেক সাবধানে তাকে ধরতে হয়। মাথায় শ্যাম্পু দেওয়ার সময় শিশুর চোখে মুখে শ্যাম্পু মিশ্রিত পানি গেলে শিশুরা কান্না করে।

যে কারণে শিশুরা
কান্না করে

শিশুরা নানা কারণে গোসলের সময় কাঁদে। প্রথমত পানির স্পর্শে শিশুরা অন্যরকম অনুভুতি পায় যা তাদেরকে কাঁদায়। নবজাতক শিশুরা গোসলকে এক কার ঘৃণা করে।

পানির প্রবাহ
চোখে প্রবেশ

শিশুকে গোসল করানোর সময় অনেক সচেতনতা অবলম্বন করলেও সামান্য ভুলের কারণে চোখের ভেতর পানি চলে যায়। যার ফলে শিশু চিৎকার করে কেঁদে ওঠে।

চোখে পানি ও সাবান প্রবেশ; Source: Scary Mommy

নবজাতক শিশুরা জানে না গোসলের সময় চোখ বন্ধ করতে হয় কি না। পানির প্রবাহ শিশুর চোখে প্রবেশ করলে তারা কেঁদে ওঠে।

আপনার যা করা
উচিত

সন্তানকে গোসল
করানোর সময় আপনার উচিত সাবধানতা অবলম্বন করা এবং গোসলের পাত্রে অতিরিক্ত পানি না
নেওয়া। ভুলবশত শিশুর মুখে অতিরিক্ত পানি ছিটানো উচিত হবে। এমনকি মুখ, মাথাসহ পুরো
শরীর ডুবানো উচিত হবে না। এতে শিশুর মুখে, কানে পানি প্রবেশ করবে এবং মারাত্মক
বিপদ ঘটবে।

র‍্যাশ বা ফোঁড়া
থাকলে

আপনার নবজাতক শিশুর শরীরে যদি কোনো প্রকার র‍্যাশ বা ফোঁড়া বা অন্য কোনো কালশিটে দাগ থাকে তাহলে তাকে গোসল না করানো ভালো। এমতাবস্থায় একটি তোয়ালে বা গামছা ভিজিয়ে সারা শরীর মুছে দেওয়া উত্তম।

শিশুর গোসল; Source: FirstCry Parenting

এমন সময় তাকে যদি পানি ও সাবানের সংস্পর্শে নিয়ে যান তাহলে সে তা সহ্য করতে পারবে না, তার মাঝে অস্বস্তির সৃষ্টি হবে এবং চিৎকার করে কেঁদে উঠবে।

আপনার যা করা
উচিত

আপনি যদি শরীরে র‍্যাশ,
ফোঁড়া থাকা অবস্থায় শিশুকে গোসল করান তাহলে সাবান প্রয়োগ করবেন না এবং বেশি সময়
তাকে পানিতে রাখবেন না। তাহলে শিশু কান্না করবে না এবং অনেকটা শান্ত থাকবে।

পানির তাপমাত্রা

নবজাতক শিশু অতিরিক্ত গরম কিংবা অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানির সংস্পর্শ সহ্য করতে পারে না। তারা কুসুম গরম পানিতে গসল করতে ভালোবাসে। অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি শিশুকে কষ্ট দেয়, অতিরিক্ত গরম পানিও তাই।

পানির তাপমাত্রা; Source: Shutterstock

শিশু সাইত্রিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। এর বেশি বা কম হলে সে সহ্য করতে পারে না। এজন্য শিশুরা গোসলকে ঘৃণা করে।

আপনার যা করা
উচিত

গোসলের পাত্রে
কুসুম গরম পানি ঢালুন এবং শিশুকে গোসল করানোর আগে আপনি হাত বা কনুই ভিজিয়ে দেখে
নিন তাপমাত্রা শিশু সহ্য করতে পারবে কিনা। আপনি যদি এভাবে বুঝতে না পারেন তাহলে
থার্মোমিটারের সাহায্য নিতে পারেন।

ক্ষুধার্ত থাকলে

গোসলের সময় শিশুদের কান্না করার আরেকটি মুখ্য কারণ হলো ক্ষুধা লাগা। শিশুরা যেহেতু মায়ের বুকের দুধ পান করে, তাই তারা কিছুক্ষণ পরপর খাবার খেতে চায়। তাই গোসল করানোর আগে যেন তার পেট ভরা থাকে মায়েদের উচিত সেদিকে খেয়াল রাখা। নয়তো সে ক্ষুধার্ত পেটে কখনোই গোসল করতে চাইবে না।

আপনার যা করা
উচিত

শিশুকে গোসল
করানোর ত্রিশ থেকে চল্লিশ মিনিট আগে তাকে বুকের দুধ খাওয়ান যেন গোসল করানোর আগে তা
হজম হয়ে যায়। তাহলে শিশু কান্না করবে না এবং গোসলকে উপভোগ করবে।

সাবান ও
শ্যাম্পুতে ভয়

শিশুদের শরীর বেশ কোমল ও সংবেদনশীল। তারা যেকোনো ক্ষারযুক্ত সাবান সহ্য করতে পারে না। তাদের জন্য প্রয়োজন একেবারে মাইল্ড সাবান ও শ্যাম্পু।

শিশুর মাথায় শ্যাম্পু; Source: The Bump

তাই আপনার আদরের সন্তানের জন্য ভালো ব্রান্ডের সাবান ও শ্যাম্পু কিনুন যেন সে সাবান ও শ্যাম্পুকে ভয় না পায়। লোকাল ব্রান্ডের সাবান ও শ্যাম্পু ব্যবহারে ত্বকে র‍্যাশ উঠতে পারে। তাই এগুলো বর্জন করা উত্তম।

আপনার যা করা
উচিত

সন্তানের
সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর শরীরের যত্নের জন্য চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন কোন সাবান ও
শ্যাম্পু শিশুর শরীরের জন্য ভালো হবে। বড়দের জন্য যেসব সাবান তৈরি করা হয় সেগুলো
ভুলেও শিশুকে ব্যবহার করাবেন না। শিশুদের ব্যবহারের জন্য উপযোগী সাবান ও শ্যাম্পু
ব্যবহার করুন।

শিশুর ক্লান্ত
শরীর

গোসলের আগে যদি
শিশু খুব ক্লান্ত থাকে এবং ঘুম ঘুম অবস্থায় থাকে তাহলে তাকে গোসল করালে সে কান্না
করবে। কেননা সে ঐ সময়ে গোসলের জন্য প্রস্তুত নয়। তাই শিশুকে রোজকার ঘুমের সময়,
খাওয়ানোর সময়, গোসলের সময় নির্ধারণ করে দিন এবং রোজ রোজ সময় মেনে তাকে গোসল করান।

আপনার যা করা
উচিত

রোজ ঘুম পাড়ানোর আগে শিশুকে গোসল করানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। তাহলে শিশু গোসলের সময় ঘুমাবে না বরং অনেকটা প্রাণবন্ত থাকবে।

Featured Image Source: iStock

লেখক – Rikta Richi

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here