গ্রীষ্মকালীন দিনগুলো সাধারণত বড় হয়। আর বড় দিনগুলোর বিকেলটায় শিশুরা চায় খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকতে। যদিও বাইরে প্রচণ্ড গরম থাকে, তবুও শিশুরা ঘরে বসে থাকতে চায় না। অনেক বাবা মা তার সন্তানকে স্মার্টফোন দিয়ে বসিয়ে রাখেন অথবা টেলিভিশন নিয়ে ব্যস্ত থাকতে বলেন। শহরে বসবাসরত অনেক শিশুরা খোলা মাঠে খেলাধূলা করার সুযোগ পায় না।

সাইকেল ও শিশু; Source: FirstCry Parenting

যার ফলে তারা স্থূলাকৃতির হয়ে যায় এবং সারাদিন টেলিভিশন, স্মার্টফোনে ব্যস্ত থাকার কারণে নীল আলোয় তাদের চোখের ক্ষতি হয়। অনেক শিশুদের চোখের পাওয়ার কমে যায়। তাই শিশুদের চার দেয়ালের মাঝে আবদ্ধ না রেখে বাইরের পরিবেশে খেলতে দেওয়া উচিত।

এমনকি মাঝে মাঝে সন্তানের সঙ্গে বাবা মায়েরও বাইরে যাওয়া উচিত। জেনে নিন শিশুদের নিয়ে করা যায় এমন কিছু মজাদার ও আত্মতৃপ্তিমূলক খেলাধুলা ও কাজ সম্পর্কে।

বাইক রাইড কিংবা
সাইকেল চালানো

আপনার সন্তানকে নিয়ে আপনি প্রতি বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় বাইক রাইডে যেতে পারেন অথবা সন্তানকে নিয়ে সাইকেল চালাতে বেরোতে পারেন। এতে আপনার সন্তান প্রফুল্ল থাকবে। তাছাড়া বাইরের জগত সম্পর্কে তার জ্ঞান বৃদ্ধি পাবে।

বাবা ও মেয়ের সাইকেল চালানো; Source: FirstCry Parenting

বাইকে চড়া কিংবা সাইকেল চালানো উত্তম ব্যায়ামও বটে। শিশুরা সাইকেল চালাতে ভীষণ পছন্দ করে। আপনি আপনার সন্তানকে উৎসাহিত করতে পারেন তার বন্ধুদের সঙ্গে সাইকেল চালানোর জন্য। বাসার পাশাপাশে এক ঘণ্টা যদি সাইকেল চালায় তাহলে তার শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ঘটবে।

ক্যাম্পিং

শিশুরা তাদের ছুটির দিনগুলো ভীষণভাবে উপভোগ করতে ভালোবাসে। কোনো এক ছুটির রাতে আপনি যদি আপনার সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পিঙে যান তাহলে তার আনন্দের সীমা থাকবে না। আমাদের দেশে ক্যাম্পিং অতোটা জনপ্রিয় না হলেও বাইরের দেশগুলোতে বেশ জনপ্রিয়। তবে আপনি কোনো একটি নির্জন দ্বীপে পরিবারসহ ক্যাম্পিঙে যেতে পারেন।

ক্যাম্পিং; Source: FirstCry Parenting

রাত জেগে আকাশ দেখা, আকাশের তারা দেখা, গল্প করা বেশ আনন্দের। তবে আপনি চাইলে আপনার বাসার ছাদে ছোট একটি তাবু টানিয়ে মজাদার পার্টি করতে পারেন। ইচ্ছে হলে ছাদে রান্না করতে পারেন, বারবিকিউ পার্টি করতে পারেন। অথবা হালকা স্ন্যাকস, খাবার, পানি বাসা থেকে নিয়ে রাখতে পারেন। সন্তানের সঙ্গে ভালো সময় কাটানোর জন্য ক্যাম্পিং হতে পারে উত্তম পরিকল্পনা।

পাখির খাবার
দেওয়া

পাখিরা যাযাবর প্রকৃতির হয়। তারা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে উড়ে বেড়ায়। গ্রীষ্মকালীন দিনগুলোতে বাইরে প্রচণ্ড দাবদাহ ও তাপ থাকে। এমন দিনগুলোতে অনেক পাখি বাড়ির ছাদের যেখানে ছায়া আছে কিংবা ছায়াযুক্ত বারান্দায় এসে আশ্রয় খোঁজে। অন্য যেকোনো প্রাণী যেমন : বিড়াল, ক্ষেত্রবিশেষে কুকুরও আশ্রয় খোঁজে। আপনি চাইলে আপনার সন্তানের সঙ্গে নিয়ে একটি মহৎ কাজ করতে পারেন।

পাখির খাবার; Source: FirstCry Parenting

আর তা হলো বারান্দায় একটি পাত্রে খাবার ও পানি রেখে দিতে পারেন। পাখি কিংবা অন্য কোনো প্রাণী আসলে সেই খাবার খেতে পারবে। যখন পাত্র খালি হয়ে যাবে তখন আপনার সন্তানকে বলবেন আবারও খাবার রেখে দিতে। এভাবে সন্তানকে মানবিকতা শেখানো, পশু পাখির প্রতি ভালোবাসা জন্ম দেয়া সহজ হবে।

পার্কে পিকনিক
করা

পিকনিক বা বনভোজন শিশুদের কাছে খুব মজার নাম। আপনার সন্তানের ছুটির দিনগুলোতে তাকে নিয়ে বনভোজনে যেতে পারেন। গ্রীষ্মের যেকোনো বিকেলে কিংবা সন্ধ্যায় পার্কে যেতে পারেন। সাথে রাখতে পারেন স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস, কিছু কার্ড গেমস, টুপি ও সানস্ক্রিন ইত্যাদি। আপনি চাইলে সাথে বই রাখতে পারেন।

পিকনিক করা; Source: FirstCry Parenting

নিরিবিলি কোনো পার্কে বসে বই পড়ার আনন্দ অনেক। যদি পার্কে খেলাধূলার সামগ্রী, দোলনা ইত্যাদি থাকে তাহলে সন্তানকে খেলাধূলা করতে দিন। খেলাধূলা করলে, বাইরে বেড়াতে গেলে শিশুর মন ভালো থাকে। শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশ ঘটে।

সাঁতার কাটা

খুব কম বাবা মা আছেন যিনি বা যারা সন্তানকে নিয়ে সাঁতার কাটতে যান। অবশ্য উন্নত দেশগুলোতে বাবা মা তার সন্তানকে শৈশব থেকে সাঁতার শেখান। আপনি চাইলে যেকোনো ছুটির দিনে কিংবা গ্রীষ্মকালীন বিকেলে সন্তানকে সাঁতার শেখাতে নিয়ে যেতে পারেন।

শিশুর সাঁতার; Source: FirstCry Parenting

যেকোনো সুইমিংপুলে সাঁতার শেখালে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ঘটবে। সাঁতার জানা একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা, যা সবার থাকে না। গ্রীষ্মকালীন সন্ধ্যায় সাঁতার কাটা সকালের তুলনায় আরামদায়ক হবে।

কারণ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রচণ্ড সূর্যের তাপ থাকে। যার ফলে সাঁতার কাটা আরামদায়ক হবে না। আর পড়ন্ত বিকেল তথা সন্ধ্যায় সাঁতার কাটলে আরাম পাওয়া যাবে, ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা আমেজ পাওয়া যাবে। মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি পাবে। পড়ন্ত বিকেল তথা সন্ধ্যায় সাঁতার কাটলে রোদে পোড়ার ভয় থাকবে না, প্রচণ্ড গরম লাগবে না, হিট স্ট্রোক হওয়ার ভয় থাকবে না।

ব্যাডমিন্টন
কিংবা ফুটবল খেলা

যদিও ব্যাডমিন্টনকে শীতকালীন খেলা বলা হয়, এটি আপনি চাইলে গ্রীষ্মকালেও খেলতে পারেন। সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আপনি চাইলে ফুটবল খেলতে পারেন। সন্তানকে খেলাধূলায় উৎসাহিত করা বাবা মায়ের দায়িত্ব।

খেলাধূলা; Source: FirstCry Parenting

খেলাধূলা করলে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সঞ্চালিত হয়, শিশুরা কর্মঠ হয়। এছাড়া তাদের মধ্যে সামাজিক মনোভাব বৃদ্ধি পায়। বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করার ফলে ভালোবাসা ও সহমর্মিতা মনোভাবও বৃদ্ধি পায়। তাই সন্তানকে ব্যাডমিন্টন অথবা ফুটবল খেলায় উৎসাহিত করুন।

লুকোচুরি খেলা

আপনার সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে মাঝে মাঝে লুকোচুরি খেলা খেলতে পারেন। খোলা মাঠ অথবা পার্কে গিয়ে এই খেলাটি খেলতে পারেন। আপনি আপনার চোখ বন্ধ রাখবেন এবং সন্তানকে বলবেন কোনো গাছের পেছনে লুকাতে।

লুকোচুরি খেলা; Source: FirstCry Parenting

আপনি কিছুক্ষণ পর তাকে খুঁজে বের করবেন। এই খেলা খেলে শিশুরা খুব মজা পায়। আনন্দে উদ্বেলিত হয়। আপনার সন্তানকে তার বন্ধুদের সাথেও লুকোচুরি খেলায় উৎসাহিত করুন। এই খেলায় ব্যথা পাওয়ার ভয় নেই।

Featured Image Source: FirstCry Parenting

লেখক – Rikta Richi

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here