ছয় থেকে নয় মাসের শিশুদের বয়সটা খুব আকর্ষণীয়। এ বয়সে তারা একটু একটু উপুড় হয়ে বসতে পারে, ঘাড় ও মাথা রাখতে পারে। কেউ কেউ দাঁড়াতে গিয়ে পড়ে যায় আবার কেউ কেউ দাঁড়াতে পারে। এ সময় তারা খেলনা পেলে আনন্দিত হয়। মনের অজান্তেই খেলতে থাকে। হাতের কাছে যেকোনো বস্তু পেলে সে খেলা শুরু করে এবং সেটি মুখে দেয়া শুরু করে।

ছয় থেকে নয় মাস বয়সের শিশুর শারীরিক বর্ধন, মানসিক বিকাশ উভয়ই দ্রুত বর্ধনশীল ও বিকাশমান থাকে। এই বয়সে খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের মানসিক বিকাশ ঘটে। তবে জানতে হবে কোন খেলনা তার হাতে দেবেন। যেকোনো খেলনা দিলে তা শিশুর উপযুক্ত নাও হতে পারে। জেনে নিন ছয় থেকে নয় মাসের শিশুদের জন্য উত্তম খেলনা সম্পর্কে।

বাদ্যযন্ত্র
জাতীয় খেলনা

বাদ্যযন্ত্র জাতীয় খেলনা শিশুদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করে। কারণ তারা বাদ্যযন্ত্র জাতীয় খেলনায় হাত দিলেই গান বেজে ওঠে কিংবা ছড়া বেজে ওঠে। এই ধরনের খেলনা থেকে তারা পশুপাখির ডাক সম্পর্কে জানতে পারে। যার ফলে তাদের মধ্যে প্রচণ্ড আগ্রহের সৃষ্টি হয় এবং তারা মানসিকভাবে ভালো থাকে।

বাদ্যযন্ত্র জাতীয় খেলনা; Source: Parenting.firstcry.com

খেলতে খেলতে নিজেদের মধ্যে অন্যরকম স্পৃহা জাগিয়ে তোলে। আর এই খেলনা দিয়ে খেলা করা খুব সহজ। শিশুরা ধরলে, কোনো কিছু দিয়ে আঘাত করলে বাদ্যযন্ত্র বেজে ওঠে। ছোট বাচ্চাদের খেলনায় বিভোর রাখলে তারা কান্না করে না, মাকে কম  জ্বালায়।

কাঠের তৈরি খেলনা

কাঠের তৈরি খেলনা যেমন বিভিন্ন রঙিন আকৃতির খেলনা, ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ ও এই জাতীয় খেলনা, পাজেল, ব্লক  ইত্যাদি শিশুদের আনন্দ দেয়। এই ধরনের খেলনাগুলো শিশুকে মাতিয়ে রাখে।

শিশুর হাতে কাঠের তৈরি খেলনা তুলে দেয়ার আগে খেয়াল রাখুন খেলনার কোনো অংশ যেন তীক্ষ্ণ বা ধারালো না থাকে। ধারালো অংশ শিশুর মুখে বা কোনো অঙ্গে লাগলে তারা আঘাত পাবে। তাই খেলনাগুলোর প্রতিটি পাশ যেন মসৃণ থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

ব্লকস

ব্লক হতে পারে শিশুদের জন্য উত্তম খেলনা। কারণ ছয় মাস থেকে নয় মাস বয়সী শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য ব্লক সাহায্য করবে। ব্লকের ওপর ব্লক দিয়ে তারা নিজের অজান্তেই কোনো কিছু তৈরি করতে পারবে।

ব্লক; Source: Parenting.firstcry.com

বড় বাচ্চারা ব্লক দিয়ে রাস্তা, বাড়ি ইত্যাদি তৈরি করে। রং বেরঙের ব্লক হলে শিশুরা আরো বেশি উপভোগ করে।

পুতুল

পুতুল নিয়ে খেলতে পছন্দ করে না এমন শিশু খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। মেয়ে শিশুরা একেবারে শৈশব থেকে শুরু করে কৈশোর পর্যন্ত পুতুল, টেডি নিয়ে খেলতে ভালোবাসে। ছয় থেকে নয় মাসের শিশুরাও পুতুল দেখলে ধরতে চায় এবং খেলতে চায়।

পুতুল; Source: Parenting.firstcry.com

তারা পুতুল নিয়ে খেলার পাশাপাশি ঘুমাতেও ভালবাসে। তাছাড়া খাওয়ার সময় পুতুলকে সঙ্গে নিয়ে খেতে পছন্দ করে। তাই আপনার ছয় থেকে নয় মাসের শিশুকে পুতুল কিনে দিন।

শিক্ষামূলক খেলনা

খেলনা তো অনেক ধরনের হয়। কিছু কিছু খেলনা নিছক বিনোদনের হয়। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে সব ধরনের খেলনা উপকারী। কারণ তারা খেললে মানসিক বিকাশ ঘটে। নিছক বিনোদনের খেলনাগুলো ছাড়াও শিক্ষামূলক খেলনা শিশুকে দেওয়া যেতে পারে।

শিক্ষামূলক খেলনা; Source: Parenting.firstcry.com

শিক্ষামূলক খেলনা যেমন : অ্যাবাকাস, অর্থাৎ গণনাযন্ত্র তাদেরকে দিলে তারা গণনার প্রতি আকৃষ্ট হবে এবং ঐ খেলাকে উপভোগ করবে। খেলতে খেলতে শিশু গণনা করতে শিখবে। তাছাড়া তাদেরকে কিছু বই, বোর্ড দেয়া যেতে পারে। শিশুদেরকে শুধু আঁকাআঁকির জন্য পেন্সিল, বোর্ড, খাতা ইত্যাদি দেওয়া যেতে পারে। আঁকিবুকি করলেও শিশুদের মানসিক বিকাশ ঘটে।

ধাক্কা দেওয়া যায়
এমন খেলনা

নয় মাস থেকে এক বছরের শিশুরা হাঁটতে পারে। নতুন নতুন হাঁটা শেখে যেসব বাচ্চা তারা একস্থান থেকে অন্যস্থানে যেতে পছন্দ করে। এ বয়সে তাই তাদের কিনে দিতে পারেন ধাক্কা দেওয়া যায় এমন খেলনা।

ধাক্কা যাওয়া যায় এমন খেলনা; Source: Parenting.firstcry.com

এই খেলনাগুলো দিয়ে খেলে শিশুরা মজা পাবে এবং তাদের মানসিক বিকাশ ঘটবে। এছাড়া এই খেলনাগুলো হাত ও চোখের মধ্যে সমন্বয় রাখা শেখাবে।

বিভিন্ন আকৃতির
বল

আপনার শিশু সন্তানকে খেলনা হিসেবে দিতে পারেন বিভিন্ন প্রকৃতির বল। শিশুরা বল দিয়ে খেলতে ভালবাসে। বল কাছে পেলে তারা তা নিয়ে খেলবে এবং মুখে দেবে। তারা যেকোনো খেলনা মুখে দিতে চায়।

বল; Source: Parenting.firstcry.com

বল দিয়ে খেলার মাধ্যমে তাদের গতির সঞ্চার হবে এবং অনুভূতি তথা ইন্দ্রিয় সংক্রান্ত বিকাশ ঘটবে। কারণ বল নিয়ে খেলতে গেলে তা ছিটকে দূরে চলে যেতে পারে। নাছোড়বান্দা শিশু তা পুনরায় ধরতে যাবে খেলার উদ্দেশ্যে।

শিক্ষণীয়
ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র বা খেলনা

আট মাস বয়সী বাচ্চার জন্য আপনি যদি খেলনা কিনতে চান তাহলে তাকে দিতে পারেন ইলেকট্রিক খেলনা। এই খেলনাগুলোর বাটন চাপলে খেলনা চালু হবে এবং শিশুদের ফোকাস করার ক্ষমতা বাড়বে। এসব খেলনা দিয়ে খেলার ফলে শিশুদের শোনার ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।

ইলেক্ট্রনিক খেলনা; Source: Parenting.firstcry.com

তবে শিশুদের হাতে ইলেক্ট্রিক খেলনা তুলে দেওয়ার সময় আপনি সামনে থাকুন যেন কোনোভাবে শিশুর কোনো ক্ষতি না হয় কিংবা ইলেক্ট্রিক যন্ত্রের ক্ষতি না হয়। কারণ শিশুরা হাতের কাছে কিছু দেখলে মুখে দিতে চায় আবার অনেক সময় ছুড়ে ফেলে দিতে চায়।

গৃহস্থালী
সামগ্রীর ন্যায় খেলনা

কম বেশি সকলেই শৈশবে খেলনার হাড়ি, পাতিল, চামচ, কড়াই ইত্যাদি দিয়ে খেলাধুলা করেছে। শৈশবের সাথে হাড়ি পাতিল দিয়ে খেলা যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

গৃহস্থালি খেলনা; Source: Parenting.firstcry.com

আপনার শিশু সন্তানের বয়স যদি সাত মাস বা তার বেশি হয় তাহলে তাকে প্লাস্টিকের থালা, বাটি, পরিমাপক যন্ত্র, চুলা, চামচ ইত্যাদি নিয়ে খেলতে দিন। খেলতে খেলতে শিশুর মধ্যে আঁকড়ে ধরার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, হাতের সঞ্চালন বাড়বে এবং ইন্দ্রিয় সংক্রান্ত বিকাশ ঘটবে।

Featured Image Source: file.army

লেখক – Rikta Richi

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here