শৈশবে শিশুরা ভীতু ও নরম প্রকৃতির থাকে। অনেক সময় শিশুদের অনেক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। বিশেষ করে ছয় থেকে দশ বছর বয়সের শিশুদের মধ্যে দুঃস্বপ্নের ব্যাপারটি বেশি লক্ষ্য করা যায়। অনেক সময় শিশুদের রাতে ঘুম ভেঙে যায় দুঃস্বপ্ন দেখার কারণে। এ বিষয়টি নিয়ে বাবা-মায়েরা অনেক সময় অধিক চিন্তা করেন। শিশুরা দুঃস্বপ্ন দেখলে অতিরিক্ত চিন্তার কিছু নেই। সাধারণত শিশু বিশেষজ্ঞরা দুঃস্বপ্ন দেখাকে শৈশবের বৃদ্ধি ও উন্নয়নের একটি অংশ মনে করেন।

দুঃস্বপ্ন কী?

দুঃস্বপ্ন হচ্ছে ভীতিকর কোনো ঘটনা যার কারণে মাঝরাতে শিশুদের ঘুম ভেঙে যায়। এই ভীতিকর ঘটনাগুলো ঘটে বাস্তবে কিংবা অবাস্তবের কোন ঘটনার জন্য। অধিকাংশ দুঃস্বপ্নের কারণ হলো অবাস্তব ঘটনা যা শিশুরা মনের অজান্তে কল্পনা করে কিংবা কল্পনা বহির্ভূত ঘটনা দুঃস্বপ্ন রূপে ধরা দেয়।

মাঝরাতে দুঃস্বপ্ন; Source: medicaldaily.com

বয়সের সাথে সাথে শিশুরা বুঝতে পারে প্রতিটি দুঃস্বপ্ন অবাস্তব এবং এগুলো ভীতিকর। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের দুঃস্বপ্নের ব্যাপারটিও কেটে যায়। সাধারণত ভূত প্রেতাত্মা, কোনো প্রাণী, কোনো দুর্ঘটনা, হঠাৎ করে ড্রেনে পড়ে যাওয়া, মৃত্যু, সহিংসতা ইত্যাদি সংক্রান্ত দুঃস্বপ্নের কারণে শিশুরা মাঝ রাতে জেগে ওঠে।

যেভাবে
বুঝবেন আপনার সন্তান দুঃস্বপ্ন দেখেছে

যদিও শিশু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন দুঃস্বপ্ন কেবল শিশুর সহজাত প্রবৃত্তি, যা শৈশবে প্রতিটি শিশুর সাথে হয়ে থাকে। যদিও দুঃস্বপ্ন নিয়ে দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই তবুও কিছু ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হয়। আপনার সন্তান যখন দুঃস্বপ্ন দেখবে তখন হঠাৎ করে সে ঘুম থেকে জেগে উঠবে।

ভীত শিশু; Source: Parents Place – Jewish Family and Children’s Services

কখনো কখনো ঘুমের মাঝে চিৎকার করে উঠবে। আবার কখনো ঘুমের মাঝে হাত পা নাড়াতে থাকবে। এমনকি সে সহিংস আচরণ ধারণ করতে পারে। দেখে মনে হবে কারো বিপরীতে প্রতিক্রিয়াশীল কোন কাজ করছে। অনেক সময় শিশুরা যে দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে ওঠার পর তা মনে রাখতে পারে না। কিন্তু তার চেহারা দেখে বোঝা যায় সে খুব ভীত সন্ত্রস্ত। 

শিশুরা যখন দুঃস্বপ্ন দেখে

বাস্তব জীবনে কোন ভীতিকর ঘটনার কারণে শিশুরা মাঝ রাতে দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে ওঠে। দেখা যায় অধিকাংশ শিশুরা দুঃস্বপ্ন দেখে দিনের বেলা কোন ভৌতিক সিনেমা দেখে কিংবা ভৌতিক কোন বই পড়ে। ভৌতিক সিনেমা ও ভৌতিক বই পড়লে শিশুদের মাথায় সেসব ভীতিকর বিষয়গুলো থেকে যায় যার ফলশ্রুতিতে তারা রাতে দুঃস্বপ্ন দেখে।

দুঃস্বপ্ন দেখে চিৎকার করে ওঠা শিশু; Source: Medical News Today

অর্থাৎ মনে চলতে থাকা কিংবা মস্তিষ্কে থেকে যাওয়া ঘটনা গুলো দুঃস্বপ্ন রূপে ধরা দেয়। দুঃস্বপ্নগুলো অনেক সময় এমন হয় কোনো একটি পরিচিত জায়গায় গিয়েও ভীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে, দৈত্য-দানব সংক্রান্ত কোনো ঘটনা ঘটতে পারে, কোনো প্রাণীর আক্রমণ কিংবা চিৎকার শুনে ভয় পেতে পারে।

আতঙ্কিত শিশু; Source: rex deus Church

যেসব শিশুরা মানসিকভাবে আতঙ্কে থাকে কিংবা পারিবারিকভাবে মানসিক সমস্যায় ভোগে সে সব শিশুরা দুঃস্বপ্ন দেখে। যেসব পরিবারে বাবা মায়ের সাথে দ্বন্দ্ব, সংঘর্ষ চলে কিংবা বাবা-মায়ের সাথে ডিভোর্স হয়ে যায় সেসব পরিবারের ছেলেমেয়েরা সর্বদা আতঙ্কে থাকে এবং তাদের মধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখার প্রবণতা বেশি। কোনো কোনো দুঃস্বপ্ন ধরা দেয় মৃত্যুরূপে। অপেক্ষাকৃত বড় শিশুরা মৃত্যুর স্বপ্ন দেখে। শিশুদের বয়সের ওপর ভিত্তি করে দুঃস্বপ্নগুলো ভিন্ন হয়।

আপনার সন্তান দুঃস্বপ্ন দেখলে যেভাবে তাকে সান্ত্বনা দেবেন

মাঝরাতে সন্তান দুঃস্বপ্ন দেখলে সে ভীষণ ভয় পাবে এবং কেঁদে উঠবে এ অবস্থায় নিজেকে সে অসহায় ভাবতে পারে এমতাবস্থায় সন্তানের প্রয়োজন আপনার ভরসা ও সান্ত্বনা। তাই তাকে
সান্ত্বনা প্রদান করুন।

আরাম
ও আশ্বস্ততা

মাঝরাতে দুঃস্বপ্ন দেখে আপনার সন্তান ভয় পেলে তাকে আলিঙ্গন করুন, আদর করুন এবং ভালোবাসুন। কেননা ঐ মুহূর্তে তার প্রয়োজন আপনার সান্তনা ও আশ্বাস। আপনি তাকে সাহস প্রদান করুন এবং বলুন ঐসব ভীতিকর ঘটনাগুলো শুধুমাত্র স্বপ্ন ছাড়া আর কিছু নয়।

মায়ের আশ্বস্ততা; Source: firstcry.com

ঐসব ভীতিকর ঘটনা কখনো বাস্তবে রূপ নেবে না। প্রয়োজনে সন্তানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিন যেন সে ধীরে ধীরে ঘুমিয়ে যেতে পারে।

পর্যাপ্ত
ঘুম নিশ্চিত করুন

আপনার সন্তানের যদি মাঝরাতে তথা গভীর রাতে ঘুম ভেঙ্গে যায় তাহলে বুঝবেন হয়তো দুঃস্বপ্ন দেখার কারণে ঘুম ভেঙ্গে গেছে। আবার কখনো কখনো রাতে দেরি করে ঘুমালে, ঘুমের আগে ভীতিকর সিরিয়াল বা সিনেমা দেখলে ভীতিকর স্বপ্ন দেখে। তাই শিশুকে প্রতিদিনের ঘুমের রুটিন তৈরি করে দিন।

পর্যাপ্ত ঘুম; Source: firstcry.com

কেননা উপযুক্ত ঘুম না হলে সে সারাদিন অন্য কাজে মনোনিবেশ করতে পারবে না। রোজ একই সময় ঘুমালে মাঝরাতে ঘুম ভাঙ্গার প্রবণতা থাকে না। এছাড়া ঘুমানোর আগে শিশুকে ভয়ের সিনেমা, গল্প পড়া ইত্যাদি থেকে বিরত রাখুন।

আলোচনা
করুন

স্বপ্নের সেই ভিতিকর প্রাণী, দৈত্য-দানব বাস্তবে শিশুকে কোনো প্রকার জ্বালাতন করতে পারবে না এবং তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না এই সম্পর্কিত আলোচনা সন্তানের সঙ্গে করুন। তাহলে সন্তান ভরসা পাবে।

প্রয়োজনে রাতে হালকা আলোর বাতি জ্বালিয়ে রাখুন যেন ঘর আলোকিত থাকে। হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেলে সে ভয় পাবে না। আপনি তাকে আশ্বস্ত করুন বিছানার নিচে তথা খাটের নিচে কোনো দৈত্য কিংবা দানব নেই, যা তার ক্ষতি করতে পারে।

নিরাপত্তা
রক্ষাকারী কম্বল

সন্তান যদি একা ঘুমাতে ভয় পায় তাহলে তাকে কম্বল দিয়ে দিন যেন সে আর ভয় না পায়। তার পাশে একটি টেডি কিংবা সন্তানের প্রিয় পুতুলটি রেখে দিন যেন সেই পুতুলটি জড়িয়ে ধরে সে ঘুমাতে পারে। শিশুরা পুতুলকে জড়িয়ে ধরে দ্রুত ঘুমিয়ে যেতে পারে।

Featured Image Source: FirstCry Parenting

লেখক – Rikta Richi

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here