প্রতিটি বাবা মা তার সন্তানের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন থাকেন। সন্তানের দাঁত ব্রাশ করা নিয়ে বাবা মা সচেতন থাকেন। শিশু যখন ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে, তখন তাকে ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা শেখাতে হয়। দাঁত ব্রাশ করা শিশুর ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার মধ্যে পড়ে।

প্রতিটি বাবা মায়ের উচিত ছোট থেকে শিশুকে দাঁত ব্রাশ করার প্রতি আগ্রহী করে তোলা। নয়তো সে সঠিকভাবে ব্রাশ করা শিখবে না। এমনকি দাঁত পরিষ্কার করার প্রতি আগ্রহী হবে না।

ব্রাশ হাতে শিশু; Source: Mama Natural

স্বভাবতই শিশুরা দাঁত ব্রাশ করতে চায় না। তারা ভীষণ অলস প্রকৃতির হয়ে থাকে। তবে বাবা মা যদি তার কাছে দাঁত ব্রাশ করার ব্যাপারটি উপভোগ্য করে তোলে তাহলে তারা দাঁত ব্রাশ করায় আগ্রহী হয়। শিশুকে তার দাঁত ওঠার সাথে সাথে ব্রাশ করার জন্য নির্দেশ দিতে হবে। তবে তাকে একা একা ব্রাশ করতে দেওয়া যাবে না।

সেন্ট্রাল অব ডিজিস কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশনের মতে, অধিকাংশ শিশুরা সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ করতে জানে না।  শিশুকে একা একা দাঁত ব্রাশ করতে দিলে সে সঠিকভাবে ব্রাশ করতে পারবে না, বেশি পেস্ট ঢেলে ফেলবে, কখনো কখনো পেস্ট খেয়ে ফেলবে কিংবা ব্রাশ না করেই দুষ্টুমি করবে। তাই প্রথমে শিশুকে শেখাতে হবে কীভাবে দাঁত ব্রাশ করতে হয়।

দাঁত ব্রাশের
জন্য কতটুকু পেস্ট ব্যবহার করা উচিত

শিশু যখন ধীরে ধীরে বড় হতে থাকবে তখন তাকে একা একা দাঁত ব্রাশ করায় অভ্যস্ত করে তুলুন। আপনি সামনে থাকবেন এবং সে দাঁত ব্রাশ করবে। নয়তো সে বুঝবে না কীভাবে ব্রাশ করতে হয় এবং কতটুকু পেস্ট ব্যবহার করতে হবে।

টুথপেস্টের পরিমাণ; Source: The Daily Amader Shomoy

শিশুর বয়স যদি তিন বছরের কম হয় তাহলে একটি চাল কিংবা একটি খাদ্যশস্যের পরিমাণ অনুযায়ী পেস্ট নিতে হবে। শিশুর বয়স যখন তিন থেকে ছয় বছর হবে তখন একটি মটরশুটির পরিমাণ পেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করতে হবে। শিশুর বয়স যখন ছয় কিংবা আট বছরের বেশি হবে তখন তাকে পুরো ব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে দাঁত ব্রাশ করতে হবে।

দাঁত ব্রাশ করার
সঠিক নিয়ম সন্তানকে যেভাবে শেখাবেন

বাবা মায়ের উচিত তার সন্তানকে সঠিক পদ্ধতিতে দাঁত ব্রাশ করা শেখানো। সন্তানকে আপনার উপস্থিতে ব্রাশ করা শেখাতে হবে। প্রথমে দেখে নিন সে সঠিক পরিমাণে টুথপেস্ট ব্রাশে নিয়েছে কিনা। যদি সন্তান খুব ছোট হয় তাহলে আপনি তার ব্রাশে পেস্ট ঢেলে দিন।

আপনার সন্তান ৪৫ ডিগ্রি এঙ্গেলে ব্রাশ করছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হোন। শুধু সামনের দাঁতগুলো ব্রাশ করলেই হবে না। বাম পাশের দাঁত, ডান পাশের দাঁত, ওপরের দাঁত ব্রাশ করতে হবে। সব দাঁতে যেন ব্রাশ পৌঁছে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

মা ও শিশুর দাঁত ব্রাশ; Source: parents.com

দাঁত ব্রাশ করতে হবে খুব ধীরে ধীরে। জোড়ালোভাবে নয়। দাঁত ব্রাশ করার পর আলতো করে আপনার সন্তানের জিহ্বা পরিষ্কার করে দিন। তারপর অতিরিক্ত টুথপেস্ট কীভাবে কুলি করে ফেলে দিতে হয় তা শেখান।

আপনার সন্তান যেন খুব সহজে ও স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী দাঁত ব্রাশ করতে পারে, তাই সন্তানের দাঁত ব্রাশ করার জন্য তার উপযোগী ব্রাশ কিনে দেবেন। শিশুর ব্রাশ হবে ছোট। ব্রাশের মাঝে কার্টুন কিংবা পুতুল আঁকা থাকলে শিশুরা খুশি হয়। শিশু যদি দাঁত ব্রাশ করতে আগ্রহী না হয় তাহলে তাকে কার্টুন, অ্যাংরি বার্ড, ফুল, বারবি ডল, পাখি ইত্যাদির ছবি সম্বলিত ব্রাশ কিনে দিন।

শিশুর দাঁত ব্রাশ; Source: 5 Minutes for Mom

বাজারে অনেক ধরনের টুথপেস্ট পাওয়া যায়। শিশুর জন্য ক্লোরাইড যুক্ত টুথপেস্ট ক্রয় করবেন না। তার ভালো লাগে এমন স্বাদের টুথপেস্ট কিনুন। শিশুদের উপযোগী করে বাজারে যেসব টুথপেস্ট পাওয়া যায় সেগুলো ভুলে খেয়ে ফেললে তেমন কোনো অসুবিধা হবে না। তাই শিশুর জন্য তার উপযোগী টুথপেস্ট কিনুন।

পেস্ট ও ব্রাশ হাতে শিশু; Source: WRAL.com

অনেকে একই কোম্পানির টুথপেস্ট বছরের পর বছর ব্যবহার করেন। চিকিৎসকরা মনে করেন একই টুথপেস্ট বছরের পর বছর ব্যবহার করা ঠিক না। বিভিন্ন কোম্পানির টুথপেস্ট ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ব্যবহার করা উচিত। আর মনে রাখবেন একটি টুথব্রাশ দুই থেকে তিন মাসের বেশি ব্যবহার করবেন না। আপনার সন্তানকেও ব্যবহার করতে দেবেন না। একটি টুথব্রাশের কার্যক্ষমতা থাকে মাত্র দুই তিন মাস। তারপর এর কোনো কার্যক্ষমতা থাকে না।

দাঁত ব্রাশ করতে হবে সকালে ও রাতে দুইবার। রোজ দুইবার দাঁত ব্রাশ করলে শিশুর দাঁতগুলো ভালো থাকবে এবং সহজে দাঁতে ক্যাভেটিস হবে না। দাঁত সুস্থ রাখার জন্য আপনার সন্তানকে মিষ্টি জাতীয় খাবার থেকে দূরে রাখুন।

শিশুরা মিষ্টি জাতীয় খাবার খেতে ভীষণ ভালোবাসে। তবে চকোলেট, কেক, মিষ্টি ইত্যাদি খেলে শিশুদের দাঁতের ক্ষতি হয় এবং অল্প কিছু দিনেই দাঁতে ক্যাভেটিস দেখা দেয়। তাছাড়া অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলে দাঁত কালো কিংবা লালচে হয়ে যায়। তাই অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার থেকে শিশুকে দূরে রাখুন।

মজার ছলে দাঁত ব্রাশ; Source: willingness.com.mt

শিশুরা অনুকরণ প্রিয় হয়। আপনার সন্তান যদি দাঁত ব্রাশ করতে আগ্রহী না হয় তাহলে আপনি তাকে সঙ্গে নিয়ে নিজের দাঁত ব্রাশ করুন। তাকেও ব্রাশ করতে বলুন। আপনি যদি রোজ রোজ তার সামনে দাঁত ব্রাশ করেন তাহলে সে আপনাকে দেখে শিখবে এবং আপনাকে অনুকরণ করতে চাইবে। এভাবে তার দাঁত ব্রাশ করার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হবে।

সন্তান যদি কিছুটা বড় হয়, তাহলে তাকে দাঁত ব্রাশ করার উপকারিতা এবং দাঁত ব্রাশ না করার অপকারিতা সম্পর্কে বলুন। দাঁত ব্রাশ করলে তাকে কোনো কিছু উপহার দিন। দেখবেন সে উপহার পাওয়ার আশায় হলেও দাঁত ব্রাশ করবে।

Featured Image Source: parents.com

লেখক – Rikta Richi

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here