বিদ্যালয় এমন একটি স্থান যেখানে অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী থাকে। বিদ্যালয়ে যেহেতু অনেক বাচ্চারা পড়াশুনা করে তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্কও বজায় থাকে। বিদ্যালয় থেকে বাচ্চারা অনেক কিছু শিখতে পারে। পড়াশুনার পাশাপাশি তারা আচার আচরণ, মূল্যবোধ, ব্যবহার, নৈতিকতার শিক্ষাও লাভ করে। বিদ্যালয়ে অনেকের সঙ্গে মিশে বাচ্চারা সামাজিক হতে শেখে। তারা বন্ধুপরায়ন হতে শেখে।

তবে আপনি জেনে অবাক হবেন, বিদ্যালয় থেকে আপনার বাচ্চার বিভিন্ন ধরণের সংক্রামক রোগ হতে পারে। কারণ বিদ্যালয়ে একসাথে অনেক বাচ্চা পড়াশুনা করে। কোনো একজনের সর্দি, কাশি, চিকেন পক্স, ভাইরাস জ্বর ইত্যাদি হলে অন্যদেরও তা হয়। কারণ এগুলো সংক্রামক রোগ। একজনের হলে অন্যজনেরও হয়।

এই রোগগুলো ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া কিংবা পরজীবীর মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। জেনে নিন আপনার সন্তানের যেসব সংক্রামক রোগগুলো বিদ্যালয় থেকে হতে পারে তা সম্পর্কে।

সাধারণ ঠাণ্ডা

সংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে সাধারণ ঠাণ্ডা অন্যতম। বিদ্যালয়ের কোনো একজনের ভাইরাসজনিত ঠাণ্ডা হলে অন্যজনেরও তা হয়। সাধারণ ঠাণ্ডা লাগলে হালকা জ্বর জ্বর ভাব হয়, শরীর কিছুটা দূর্বল হয়ে যায়, নাক দিয়ে পানি পড়ে, চোখের রং হালকা পরিবর্তন হয়ে যায়। ঠাণ্ডা লাগলে কাশি, কফ হতে পারে।

ঠণ্ডা; Source: BabyCentre

আপনার সন্তানের যদি ঠান্ডা লাগে এবং সর্দি সহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে আপনার সন্তানকে বার বার হাত ধুতে বলুন। হাত ধুয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকলে সাধারণ ঠাণ্ডার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। তাছাড়া গরম পানি খেলে এবং গরম পানির ভাপ নিলে ঠাণ্ডার হাত থেকে অনেকটা মুক্তি মেলে।

মাথার উঁকুন

সব মেয়েদের মাথায় কম-বেশি উঁকুন থাকে। মাথার স্ক্যাল্প, চুলের গোড়া যদি অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন থাকে তাহলে মাথায় উঁকুন হয়ে থাকে। আপনার সন্তান যদি খুব পরিষ্কার পরিচ্ছন্নও হয় তবুও বিদ্যালয়ে গেলে তার অন্য বন্ধুদের মাথা থেকে তার মাথায় উঁকুন চলে আসতে পারে। উঁকুন এত ছোট যে সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে এক মাথা থেকে অন্য মাথায় চলে যায়।

উঁকুন খুব দ্রুত স্থানান্তরিত হতে পারে। আপনার সন্তানের মাথায় যদি উঁকুন হয় তাহলে উঁকুননাশক শ্যাম্পুর ব্যবহার করে তা দূর করতে পারেন। তবে মাথা থেকে উঁকুন দূর করার জন্য প্রথমে নিয়মিত মাথার চুল ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে। মাথায় উঁকুনসহ ডিম থাকলে তা দূর করতে হবে। তারপর লেবুর রস, পেঁয়াজের রস ইত্যাদি প্রয়োগ করতে হবে। সবচেয়ে ভালো ফলাফল পাবেন নিম পাতার পেস্ট ব্যবহার করলে।

ফ্লু কিংবা
ইনফ্লুয়েঞ্জা

সাধারণত অনেকে ঠাণ্ডা লাগা ও ফ্লু কে একরকম মনে করে। আসলে ফ্লু ও সাধারণ ঠাণ্ডা এক নয়। ফ্লু কিংবা ইনফ্লুয়েঞ্জা হলে ক্লান্ত লাগে বেশি, পেটের পীড়া দেখা দেয়। তাছাড়া ফ্লু হলে জ্বর আসে এবং শরীর ব্যথা করে।

ফ্লু; Source: The Irish Times

আপনার সন্তান যদি ফ্লু কিংবা ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয় তাহলে তাকে যথেষ্ট পরিমাণের বিশ্রাম নিতে বলুন। প্রয়োজনীয় ওষুধ খেতে দিন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

হাত, পা ও মুখের
রোগ

আপনি জেনে অবাক হবেন যে, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বাচ্চাদের সাথে মিশে আপনার সন্তানের হাত, পা ও মুখের রোগ হতে পারে। এই রোগগুলো কোনোটায় স্বস্তিদায়ক না। হাতে, পায়ে, মুখে রোগ হলে আক্রান্ত স্থানে জ্বালা করতে পারে। এগুলো জ্বরের থেকে আরো ভয়ানক হতে পারে। এমতাবস্থায় আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।

চোখ ওঠা

অনেকেরই চোখ ওঠা রোগ হয়ে থাকে। সাধারণত এই রোগটি হয় অপরিষ্কার থাকার ফলে। চোখ ওঠলে চোখ লাল হয়ে যায়, চোখ ফুলে যায় এবং চোখে হালকা ব্যথা অনুভব হয়। মনে হয় চোখের ভেতর কিছু একটা পড়েছে, চোখ চুলকায়, চোখের কোনায় ময়লা জমে। ব্যাকটেরিয়া কিংবা ভাইরাসের আক্রমণের কারণেও চোখ উঠতে পারে।

চোখ ওঠা; Source: হেলথ টিপস – eHaspatal

আপনার সন্তানের চোখ ওঠলে তাকে সানগ্লাস ব্যবহার করে বাইরে যেতে বলুন। এটি ছোঁয়াচে রোগ। একজনের থেকে অন্যদের হয়। চোখ আক্রান্ত ব্যক্তির রুমাল, তোয়ালে, কাপড়চোপড় অন্য কেউ ধরলে তারও চোখ ওঠে। চোখ উঠলে অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ দিতে হবে এবং চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করতে হবে।

চিকেন পক্স

চিকেন পক্স একটি ছোঁয়াচে রোগ। এটি হলে সারা শরীরে গোটা হয়। এমনকি মাথার চুলের মাঝেও হয়। চিকেন পক্স হলে শরীরে অসহ্য জ্বালা হয়। তাছাড়া জ্বরের মাত্রাও বেড়ে যায়। আপনার সন্তানের যদি চিকেন পক্স হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা নিন এবং সন্তানকে বিভিন্ন তরল জাতীয় খাবার খাওয়ান।

পক্স; Source: Philly.com

বিশেষ করে ডাবের পানি খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া হালকা গরম পানিতে গোসল করতে হবে, সাবান পানি দিয়ে পক্স ধুতে হবে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মলম লাগাতে হবে। চিকেন পক্স হলে নিম পাতার ট্যাবলেট খেলে এবং গরম পানি ও নিম পাতা মিশ্রিত পানিতে গোসল করলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

হাম

হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ, এটি মারাত্মক একটি রোগ। সময়ের সাথে সঠিক চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করলে গুরুতর অবস্থা হয়ে যায়। হাম হলে শরীরে জ্বর হয়, শরীর ম্যাজম্যাজ করে, হালকা ব্যথা অনুভব হয়। হাম হলে জ্বরের মাত্রা তীব্র হতে পারে, শরীরে ফুস্কুড়ি হতে পারে, চোখ লাল হয়ে যেতে পারে এবং ফুস্কুরি সারা শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

হাম, Source: Which.co.uk

আপনার সন্তানের হাম হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা সেবা শুরু করুন। নিয়মিত গোসল করান। খানিক পর পর ভেজা তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে এবং বেশি করে পানি পান করতে হবে।

Featured Image Source: Healthy Essentials

লেখক – Rikta Richi

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here