বিদ্যালয় পরিবর্তন করা সকল শিশুর জন্য কষ্টদায়ক। কেননা শিশুরা প্রথমে যে বিদ্যালয়ে ভর্তি হয় সেখানের বন্ধু বান্ধব ও শিক্ষকদের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে এবং ভালো সম্পর্কে গড়ে ওঠে। নতুন একটি বিদ্যালয় মানে সম্পূর্ণ নতুন একটি পরিবেশ। নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানো এবং নতুন নতুন বন্ধু বানানো শিশুদের পক্ষে অতটা সহজ নয়। শিশুরা অন্যের সাথে সহজে মিশতে পারে না।

নতুন বিদ্যালয়ে মা ও শিশু; Source: Care.com

এসবকিছু বিবেচনায় আনার পরেও বিদ্যালয় পরিবর্তন করতে হয়। প্রতিটি ধাপে অগ্রগতি কামনা করা প্রতিটি বাবা মায়ের লক্ষ্য। তাই পূর্বের বিদ্যালয়ের চেয়ে ভালো বিদ্যালয় তথা পড়াশুনার মান ভালো এমন বিদ্যালয় পেলে বাবা মা চান সন্তানকে উক্ত বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে। তবে নতুন বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর আগে বাবা মাকে বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয়।

শিশুর প্রাথমিক
বিদ্যালয় পরিবর্তন করার আগে বিবেচ্য বিষয়

প্রতিটি বাবা মা
তাদের সন্তানের সফলতা কামনা করেন। সন্তানকে ভালো অবস্থানে দেখতে চান। আর তাই
সন্তানের পেছনে অবিরাম ছুটে চলেন তারা। সন্তানকে ভালো বিদ্যালয়ে ভঋ করানো নিয়ে
তাদের দৌড় ঝাঁপ শুরু হয়। তবে অভিভাবককে শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিবর্তন করার আগে
যেসব বিষয় ভাবতে হবে সেগুলো জানতে হবে।

পরিবর্তন
সন্তানের উপর কিরূপ প্রভাব ফেলবে

সন্তান কোন বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করবে, কতটা ভালো পরিবেশে আপনি তাকে রাখবেন তার সিদ্ধান্ত কেবল আপনার। আপনার সন্তানের বিদ্যালয় পরিবর্তন করার আগে তার সাথে এ ব্যাপারে কথা বলুন।

কারণ হতে পারে সে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়বে। বিদ্যালয় পরিবর্তন করলে শিশু নতুন পরিবেশের নতুন বন্ধুদের সাথে মিশতে পারবে কিনা তা আগে থেকে কিছুটা হলেও নিশ্চিত হয়ে নিন।

সামাজিক সম্পর্ক

নতুন বিদ্যালয় মানে নতুন একটি অধ্যায়। সেখানে নতুনভাবে সকলের সাথে পরিচিত হতে হবে। আগের বিদ্যালয়ের বন্ধু বান্ধবের সাথে আপনার সন্তানের কেমন সম্পর্ক তা সম্পর্কে জানুন।

প্রাণবন্ত শিশু; Source: Ambitious about Autism

নতুন পরিবেশে গিয়ে আপনার সন্তান খাপ খাওয়াতে পারবে কিনা, নতুনদের সঙ্গে মিশতে পারবে কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত হোন। আপনার সন্তান কতটা সামাজিক হতে পেরেছে তা জানুন। পুরনো বন্ধুদের সাথে কাটানো মুহূর্ত, তাদের সাথে গড়ে ওঠা সখ্যতা গুলো ভুলতে আপনার সন্তানের দীর্ঘ সময় লাগবে।

পড়াশুনার মান এবং
শিক্ষকদের ব্যবহার

আপনি যখন সন্তানকে নতুন একটি বিদ্যালয়ে ভর্তি করাবেন তখন সে বিদ্যালয়ের পড়াশুনার মান সম্পর্কে জানুন এবং সেই সাথে শিক্ষকদের আচরণ ও ব্যবহার সম্পর্কে জানুন।

উক্ত বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড কেমন, তাদের বার্ষিক ফলাফল কেমন, ক্রীড়া ও খেলাধুলায় তারা কতটা এগিয়ে ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা নিন। এছাড়াও পড়াশুনার পদ্ধতি, কৌশল, বেতন ইত্যাদি সম্পর্কে জানুন।

শ্রেণির পাঠদান
পদ্ধতি

সন্তানকে নতুন
বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর আগে বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণিতে কয়জন শিক্ষার্থী রয়েছে তা
জানুন। শিক্ষকরা কীভাবে শিশুদের পাঠদান করে তা জানুন। সকল শিশুর বোঝার ক্ষমতা ও
মেধা এক না। যারা একটু কম বোঝে সেসকল শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষকরা আলাদা যত্ন নেন
কিনা তা সম্পর্কে জানুন।

সৃজনশীলতার উপর
জোর

নতুন বিদ্যালয়ে
গান, নাচ, কবিতা আবৃত্তি ইত্যাদি সৃজনশীলতার উপর কতটুকু জোর দেয় সে সম্পর্কে জানুন।
আপনি যদি চান আপনার সন্তান সৃজনশীল দিকগুলোতে ভালো করুক, তাহলে তাকে এমন বিদ্যালয়ে
ভর্তি করান যেখানে সৃজনশীল কর্মকান্ডের ওপর বেশ জোর দেয়। বিদ্যালয় সাংস্কৃতিক
কর্মকান্ডে এগিয়ে থাকলে আপনি আপনার সন্তানকে ভর্তি করাতে পারেন।

নতুন বিদ্যালয়ে
যেভাবে শিশুকে খাপ খাওয়াতে পারেন

সন্তানকে শুধু
বিদ্যালয়ে ভর্তি করালে হবে না। নতুন বিদ্যালয়ে কীভাবে চলতে হবে, কীভাবে নতুন
বন্ধুদের সাথে মিশতে হবে সে সম্পর্কে জানাতে হবে।

শিক্ষকদের সাথে
সু-সম্পর্ক

নতুন পরিবেশে শিশুরা খুব উদ্বিগ্ন থাকে। কীভাবে নতুন পরিবেশে মিশতে হয় সেটি তারা জানে না। তাই অভিভাবকের উচিত রোজ তাকে বিদ্যালয়ে দিয়ে আসা এবং নতুন বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।

আন্তরিক শিক্ষক; Source: KevinMD.com

শিক্ষকদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলে শিশুরা শ্রেণিতে কান্না করবে না এবং শিক্ষক তাকে আলাদা যত্ন নিতে পারবে। শিশুরা প্রায় সময় নতুন পরিবেশে গিয়ে কান্না করে। কারণ তারা অপরিচিত পরিবেশে নিজেকে মানাতে পারে না। আর অপরিচিত পরিবেশকে আপন করতেও সময় লাগে।

নতুন বন্ধু তৈরি
করার উৎসাহ প্রদান

আপনার সন্তানকে নতুন বিদ্যালয়ে নতুন নতুন বন্ধু নির্বাচনের উৎসাহ প্রদান করুন। বন্ধু ছাড়া জীবন চলে না। আর শিশুরা তো বন্ধু ছাড়া চলতে পারে না। বিদ্যালয়ে যদি শিশুর ভালো বন্ধু তৈরি হয়ে যায়, তাহলে সে রোজ বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগ্রহ খুঁজে পাবে।

বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা; Source: midohiofoodbank.org

নয়তো সে বিদ্যালয়ে যেতে চাইবে না। আপনার সন্তান বিদ্যালয়ে গিয়ে অন্যদের সাথে কেমন ভাবে মিশছে, কারো সাথে খারাপ আচরণ করছে কিনা তার খবরাখবর রাখুন। মাঝে মাঝে সন্তানের বন্ধুদের বাসায় দাওয়াত দিন এবং সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলুন।

তাকে আশ্বস্থ
করুন

সন্তানকে নতুন
বিদ্যালয়ে ভর্তি করালেই আপনার দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে না। নতুন বিদ্যালয়ের শিক্ষক,
পরিবেশ, পরাশুনা, বন্ধু ইত্যাদি সবকিছুর ব্যাপারে শিশুকে আশ্বস্থ করুন। সন্তান যেন
কোনো কিছুকে ভয় না পায় সে খেয়াল রাখুন। তার মনের ভেতর যদি ভয় ভীতি থাকে তাহলে সে
বিদ্যালয়ে ভালো ফলাফল করতে পারবে না।

ছুটির সময় হওয়ার
আগেই বিদ্যালয়ে পৌছান

আপনার সন্তানের বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার অন্তত পাঁচ মিনিট পূর্বে আপনি সেখানে পৌছান। যেন ছুটির পর সে এসে আপনাকে খুঁজে পায়। শিশুরা ছুটির পর মা বাবাকে খুঁজে না পেলে কান্না করে।

ছুটির পর বাড়ি ফেরা; Source: Parenting Dialogue

তাই এমনভাবে চলাফেরা করুন যেন আপনার কোনো আচরণে সন্তান ভয় না পায়, নিজেকে অসহায় মনে না করে। সন্তানকে সর্বদা নিশ্চিন্তে রাখুন।  

Featured Image Source: Reader’s Digest

লেখক – Rikta Richi

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here