পরিবারে যখন একজন ছোট শিশু থাকে তখন ঘরের পরিবেশ নিরাপদ রাখতে হয়। কারণ অনিরাপদ পরিবেশে যেকোনো সময় শিশুর দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। শিশুর জন্য গোসলখানাও নিরাপদ রাখতে হয়। নয়তো যেকোনো সময় শিশুর যেকোনো ক্ষতি হতে পারে। প্রতিবছর বাবা মায়ের অসাবধানতার কারণে বাথটাবে ডুবে অনেক শিশু মৃত্যুবরণ করে।

অথচ শিশুরা বাথরুমে গোসল করবে আনন্দের সাথে- এমনটাই হওয়ার কথা। মাত্র তিন ইঞ্চি গভীর জলে ডুবে অনেক শিশু মারা যায়। বাবা মায়েরা অনেক সময় অন্য কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে শিশুর দিকে নজর রাখতে পারে না। আর তাই হামাগুড়ি দিতে পারে এমন শিশুরা কিংবা নতুন হাঁটতে শিখেছে এমন শিশুরা বাথরুমে গিয়ে দূর্ঘটনায় কবলিত হয়। তাই জানতে হবে কীভাবে গোসলখানাকে নিরাপদ রাখতে হয়।

কখনো সন্তানকে
একা বাথটাবে রেখে যাবেন না

সন্তানকে একা বাথটাবে রেখে দূরে চলে গেলে বাথটাবের পানি পূর্ণ হয়ে সন্তান ডুবে যেতে পারে। অথচ বাথটাবে গোসল করার ব্যাপারটি আনন্দের। সন্তান যদি গোসল করতে অনীহা প্রকাশ করে তবে আপনার উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার মাধ্যমে সে গোসলের প্রতি আগ্রহী হবে।

বাথটাবে গোসল; Source: Cool Baby Kid

প্রয়োজনে মিউজিকের তালে তালে তাকে গোসল করাতে পারেন। তবে ভুল করে হলেও কখনো সন্তানকে একা রেখে মনযোগ অন্যদিকে ধাবিত করবেন না। এতে সন্তানের ক্ষতি হবে। কারণ তারা অবুঝ। হুট করে কোনো বিপদ ঘটলে তা থেকে বেরোতে পারবে না।

শিশু সন্তানকে
একা গোসলে পাঠাবেন না

শিশুরা দূরন্ত হয়ে থাকে। তাদের কখনো একা গোসলে পাঠানো উচিত নয়। একা গোসল করতে দিলে তারা বেশি সময় ধরে পানিতে গোসল করবে, ধারালো জিনিস কাছাকাছি থাকলে ধরে ফেলতে পারে এবং যেকোনো অঘটন ঘটিয়ে ফেলতে পারে। তাই সন্তানকে সর্বদা চোখে চোখে রাখুন।

মেঝে সর্বদা
শুকনো রাখুন

মেঝেতে পানি ফেলে রাখলে বাথরুমের মেঝে পিচ্ছিল হয়ে যায়। আর পিচ্ছিল মেঝেতে পড়ে গিয়ে যেকোনো দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই মেঝে সর্বদা শুকনো রাখুন। প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার বাথরুম বা গোসলখানা পরিষ্কার করুন।

শুকনো মেঝে; Source: johncflood.com

কেননা অপরিষ্কার বাথরুম স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাছাড়া জীবাণু দূর হয় না। আপনার শিশু সন্তানের সুস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে বাথরুম সর্বদা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন।

কমোড ঢাকনা দিয়ে
ঢেকে রাখুন

শিশু সন্তানকে যেকোনো দূর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচাতে কমোডের ঢাকনা সবসময় লাগিয়ে রাখুন। কারণ শিশুদের কাছে সব বিষয় আনন্দের মনে হয়।

কমোডে ঢাকনা; Source: johncflood.com

অসাবধানতা কিংবা অসতর্কতার কারণে তারা যেকোনো সময় ভেতরে পড়ে যেতে পারে কিংবা অন্য কোনো কাজ করতে পারে যা বেদনাদায়ক। তাই সর্বদা কমোড ঢেকে রাখুন।

ধারালো ও ভীতিকর
জিনিসগুলো শিশুর নাগালের বাইরে রাখুন

দুই তিন বছরের বাচ্চারা খুব কৌতুহলপ্রবণ হয়। তাদের কাছে বাথরুমে গিয়ে খেলা করাটা আনন্দের। খেলতে খেলতে হঠাৎ করে আপনার ব্যবহৃত রেজার কিংবা ব্লেডে হাত দিয়ে দিলে দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এসব জিনিসগুলো দূরে রাখা শ্রেয়। চমৎকার নকশার শ্যাম্পুর বোতল দেখে অনেক শিশুর আগ্রহ জাগে।

ধারালো জিনিস; Source: johncflood.com

এসব বোতল যদি হাতের কাছে থাকে তাহলে শিশুর মনে হতে পারে একটু খেয়ে দেখলে কেমন হয়। পরক্ষণে খেয়ে দেখলেই বিপদ ঘটে যাবে। তাই এসব জিনিস শিশুর নাগালের বাইরে রাখুন এবং প্রয়োজনে তালা দিয়ে রাখার ব্যবস্থা করুন।

কোনো গরম
যন্ত্রপাতি অবহেলায় ফেলে রাখবেন না

বাথরুমে কোনো কাজ করার প্রয়োজনে যদি কোনো যন্ত্রপাতি আনার প্রয়োজন হয় তাহলে কাজ শেষে সেগুলো এখানে সেখানে ফেলে রাখবেন না। গরম যন্ত্রপাতি এখানে সেখানে ফেলে রাখলে শিশু কৌতুহলবশত ধরে ফেলবে এবং ভয়ঙ্কর দূর্ঘটনায় পতিত হবে। তাই এসব যন্ত্রপাতি যথাস্থানে রাখুন।

গরম যন্ত্র; Source: johncflood.com

ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো প্লাগ থেকে খুলে রাখুন। নয়তো ভেজা হাতে শিশু সেখানে ধরে ফেলতে পারে। অনেকে চুল স্ট্রেইট করার স্ট্রেইট মেশিন, আয়রন মেশিন প্লাগে লাগিয়ে রেখে দেয়। এগুলো অসচেতনভাবে ফেলে রাখলে শিশুর হাত পুড়ে যেতে পারে, মারাত্মক দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

ঝর্নায় হোক শিশুর
গোসল

আপনি যদি মনে করেন শিশু ঝর্নায় গোসল করার জন্য প্রস্তুত তাহলে তাকে ঝর্নায় গোসল করতে দিন। সে যখন গোসল করবে তখন আপনি সামনে থাকুন। ঝর্নায় গোসল করলে শিশুর ডুবে যাওয়া, পানি খেয়ে ফেলার ভয় থাকে না।

ঝর্নায় গোসল; Source: parenting.firstcry.com

তবে খেয়াল রাখবেন ঝর্নায় গোসল করার আনন্দে শিশু যেন পা পিছলে পড়ে না যায়, অধিক সময় ধরে গোসল না করে। দীর্ঘক্ষণ পানিতে গোসল করলে ঠাণ্ডা লেগে যাবে।

একটু উঁচুতে
কেবিনেট তৈরি করুন

শিশুরা হাতের কাছে যা পায় তাই ধরে ফেলার চেষ্টা করে এবং তা মুখে দেয়ার চেষ্টা করে। বাথরুমে রাখা সকল উপকরণ যেমন সাবান, ক্রিম, বাথসল্ট, মর্নিং ওয়াশ ক্রিম, মর্নিং টনিং, ম্যাসাজ ক্রিম, ফেসওয়াশ ইত্যাদি আপনার জন্য প্রয়োজনীয়। এগুলো শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় নয়।

উঁচুতে কেবিনেট; Source: parenting.firstcry.com

তাই এই জিনিসগুলো রাখার জন্য একটু উঁচুতে কেবিনেট তৈরি করুন যেন শিশুরা ধরতে না পারে। শিশুরা যদি ধরতে পারে তাহলে তা বোতল সমেত মুখের ভেতরে পুরে দেবে কিংবা ক্রিম, সল্ট সব ফেলে দেবে। এটাকে তারা আনন্দের খেলা মনে করবে।

সারাক্ষণ মনোযোগী
থাকুন

কথায় আছে প্রতিরোধ চিকিৎসার চেয়ে উত্তম। শিশুকে সারাক্ষণ চোখে চোখে রাখুন। কারণ শিশুরা কোনো কিছু না বুঝে অঘটন ঘটিয়ে ফেলে যার খেসারত দিতে হয় বাবা মাকে। একটু অমনোযোগী হলে শিশু চোখের আড়াল হয়ে যায়। শিশুকে সঠিকভাবে বাথরুম ব্যবহার করার কৌশল শিখিয়ে দিন, গোসল করার কৌশল শিখিয়ে দিন।

Featured Image Source: Best Pick Reports

লেখক – Rikta Richi

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here