শিশুরা বর্ধনশীল। তাদের দৈহিক বর্ধন ও পরিবর্তন খুব দ্রুত হয়। শিশুদের শারীরিক উন্নয়ন ও পরিবর্তন এত দ্রুত হয় যার ফলে একদিন একটি শিশুকে যতটুকু লম্বা দেখা যায়, কিছুদিন পর তার চেয়ে অনেক বেশি লম্বা দেখায়। কারণ শিশুরা প্রতিদিন একটু একটু করে বাড়ে।

প্রতিদিন কয়েক সেন্টিমিটার করে শারীরিক বর্ধন ঘটে। শারীরিক বর্ধনের সাথে সাথে অন্যান্য কিছুরও পরিবর্তন ঘটে। শৈশবে শিশুদের শারীরিক বর্ধন দেখে অনুমান করা যায় বড় হয়ে সে লম্বা হবে নাকি খাটো হবে।

শিশুদের শারীরিক উন্নয়ন

শিশুদের শারীরিক উন্নয়ন বলতে দৈহিক বৃদ্ধি, বিভিন্ন অঙ্গের বৃদ্ধি, মোটর দক্ষতা বৃদ্ধি পাওয়াকে বোঝায়। শিশু একটু একটু করে বড় হওয়ার সাথে সাথে তার অন্যান্য চাহিদা বাড়তে থাকে। তার ক্ষুধা বাড়ে, পুষ্টি চাহিদা বাড়ে। সঠিক পুষ্টি পেলে সে সুন্দর ও সুগঠিতভাবে বড় হয়।  

বিভিন্ন বয়সে শারীরিক উন্নয়ন

শিশুরা প্রতিটি পদক্ষেপে বড় হয়। তাদের শরীর বর্ধনশীল।
বিভিন্ন বয়সে তাদের শারীরিক উন্নয়ন হয় বলেই তারা ছোট থেকে বড় হয়।

০-৩ মাস

জন্মের পর নবজাতক শিশু শুয়ে থাকে। কারণ এটিই তার বৈশিষ্ট্য। এ সময় তাদের পেশি শক্তি কিছুটা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ধীরে ধীরে একটি শিশু শয়ন অবস্থা থেকে ঘাড় রাখতে পারে তবে মাথা তুলে থাকতে পারে না। তার ঘাড় ও পেশিতে শক্তি সঞ্চিত হয় ধীরে ধীরে। তিন মাস বয়সের মধ্যে শিশুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কিছুটা বৃদ্ধি ঘটে। তারা হাত পা নাড়াচাড়া করতে পারে। তারা মুখের সামনে হাত আনতে পারে এবং বাইসাইকেল চালানোর মতো করে পা চালাতে পারে।

তিন মাসের শিশু; Source: WebMD

জন্মের শুরু থেকে শিশুর হজম ক্ষমতা বাড়তে  থাকে। শিশু তার মায়ের বুকের দুধ খাওয়া শুরু করে এবং এর ফলে তার শারীরিক বৃদ্ধি ঘটে। এর সাথে সাথে তার শরীরে ধীরে ধীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জিত হতে থাকে। এ সময়ে তার চোখের দৃষ্টিশক্তি অনেক প্রসারিত না হলেও সে সবকিছু দেখতে পায়। এক দৃষ্টিতে কোনো দিকে তাকিয়ে থাকতে পারে।

৪-৬ মাস

চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ মাস বয়সের মধ্যে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি আগের চেয়ে আরেকটু বেশি ঘটে। তার শরীরে নতুন টিস্যু গঠিত হয় এবং শরীর বৃদ্ধি পায়। এ সময়ে শিশু ঘাড় রেখে বসতে পারে। ছয় মাস বয়সের আগে বা পরে শিশু বিছানায় বসতে পারে। কারো সাহায্য ছাড়া বসতে পারে। এ সময়ে শিশু সকল খেলনাগুলো হাতে নিতে শেখে। সে সবগুলো আঙ্গুল দিয়ে ঝুনঝুনি কিংবা যেকোনো খেলনা আঁকড়ে ধরতে শেখে। এমনকি অন্যদের হাতে খেলনা পৌঁছে দিতে পারে। কারণ এ বয়সে শিশু ছুঁড়ে ফেলা শিখে যায়।

ছয় মাসের শিশু; Source: FirstCry Parenting

চার থেকে ছয় মাস বয়সের মধ্যে শিশুর দেখার ক্ষমতা আগের চেয়ে বেড়ে যায়। সে বাবা মা ও পরিচিত জনের মুখ ধীরে ধীরে শনাক্ত করা শুরু করে। অপরিচিত কারো কাছে গেলে কান্না শুরু করে। তার শ্রবণ ক্ষমতা আগের চেয়ে উন্নত হয়। কেউ তাকে ডাকলে সে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। এর মানে সে শুনতে পায়। ধীরে ধীরে স্বর, শব্দ ও আওয়াজ এর মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারে।

৭-৯ মাস

সাত থেকে নয় মাসের মধ্যে শিশু আরো কিছু যোগ্যতা অর্জন করে। এ সময় সে হামাগুড়ি দিতে শিখে যায়। কনুই ব্যবহার করে হামাগুড়ি দিতে গিয়ে পড়ে যায়। শিশু যখন হামাগুড়ি দিতে শিখে যায় তখন তার ছুটোছুটি শুরু হয়ে যায়। এ সময় অন্যের সাহায্যে সে কয়েক সেকেন্ডের জন্য দাঁড়াতে পারে।

নয় মাসের শিশু; Source: MomJunction

এ সময়ে শিশু মায়ের বুকের দুধ ছাড়াও ফিডার খেতে পারে, তরল খাবার যেমন ভাত, খিচুড়ি ইত্যাদি খেতে পারে। যেহেতু সে হামাগুড়ি দেওয়া শিখে যায় সেহেতু অন্য কারো কাছে গিয়ে খেলনা আনতে পারে।

সাত থেকে নয় মাস বয়সের মধ্যে তার ভোকাল কর্ড ডাকার সক্ষমতা অর্জন করে। শিশু আলতোভাবে বাবা, মা, দাদা ইত্যাদি শব্দগুলো উচ্চারণ করতে পারে। তারা পরিবারের সদস্যদের কণ্ঠস্বর শনাক্ত করতে পারে।

১০-১২ মাস

এ সময়ে শিশুরা দ্রুত হামাগুড়ি দিতে পারে। তারা অন্যের সাহায্য নিয়ে কিংবা কারো সাহায্য ছাড়া মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারে।

বারো মাসের শিশু; Source: MomJunction

এ সময়ে শিশু খেলনা নিক্ষেপ করতে পারে। দাঁড়াতে গিয়ে পড়ে যায় আবার দাঁড়াতে চেষ্টা করে। শিশুর খাদ্যাভ্যাসও পরিবর্তন হয়। হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

১৩-১৫ মাস

তেরো থেকে পনেরো মাসের মধ্যে শিশু নিজে নিজে দাঁড়াতে পারে এবং অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। সে ভারসাম্য খুঁজে পায়। এ বয়সে শিশুরা নিজ হাতে খাবার খাওয়া শিখে যায়।

খাবার খাওয়ার সময় খাবার ছড়াতে ছিটাতে থাকে। এ বয়সে শিশুর হাতে কলম দিলে সে দাগ টানতে অর্থাৎ স্কেচ করতে পারে। তার দৃষ্টি আরো প্রসারিত হয়।

১৬-১৮ মাস

ষোলো থেকে আঠারো মাস বয়সে শিশু খেলনা উত্তোলন করতে পারে,
খেলনা নিয়ে পায়চারি করতে পারে। নিজে নিজে হাঁটতে পারে।  এ সময়ে সে কাপে করে খাবার খেতে পারে, চামচ দিয়ে
খেতে পারে। হাতে পেন্সিল বা কলম থাকলে এলোমেলো অনেক কিছু আঁকতে পারে।

১৯-২১ মাস

এ সময়ে শরীরে টিস্যু দ্রুত গতিতে বাড়ে বলে শারীরিক বর্ধন ঘটে। এ সময় বাচ্চা হালকা কিছু বহন করতে পারে। তার সামনে বই বা খাতা থাকলে তা উল্টাতে পারে এবং ছিঁড়ে ফেলতে পারে।

২২- ২৪ মাস

বাইশ থেকে চব্বিশ মাসের মধ্যে শিশুরা প্রাক প্রাথমিকে ভর্তি হওয়ার সুযোগ অর্জন করে। তারা ভারি জিনিস বহন করতে পারে। তাদের শারীরিক উন্নয়ন হয়, বৃদ্ধি ঘটে।

বাইশ মাসের শিশু; Source: MomJunction

তারা সোফায় বসতে পারে, দুষ্টুমি করতে পারে, বলে লাথি মারতে পারে এবং বিভিন্ন আকৃতির বিভিন্ন জিনিস আঁকতে পারে।

২৫-২৯ মাস

এ বয়সে বাচ্চা দৌড়াতে পারে, বাইরের যেকোনো খেলায় অংশ
নিতে পারে, শিশুদের পেশি শক্তি বৃদ্ধি পায়। এ সময় শিশুরা বন্ধুদের সাথে মেশা শুরু
করে, একা একা পোশাক পরা শিখতে পারে এবং একা একা দাঁত ব্রাশ করা শিখতে পারে।

৩০-৩৬ মাস

এ সময়ে শিশুরা অনেক দুরন্ত হয় কারণ ইতিমধ্যে তাদের তিন বছর হয়ে যায়। তারা পড়াশুনার জন্য অনেকটা প্রস্তুত হয়ে যায়।

ত্রিশ মাসের শিশু; Source: MomJunction

যেকোনো ফল, সবজি, মাছ ইত্যাদি খেতে পারে। এ বয়সের শিশুরা দৌড়ানো, লাফানো, খেলাধুলা করতে পারে।

Featured Image Source: Oxbridge Academy

লেখক – Rikta Richi

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here