ভুল কি শুধু শিশুরাই করে? না, তা নয়। বড়রাও মনের অজান্তে ভুল করে। ভুলগুলো যে আসলেই ভুল তা অনেকে বুঝতে পারে না। যার ফলে সন্তানের ওপর মানসিক ও শারীরিক প্রভাব পড়ে। এই ভুলগুলোর কারণে শিশুরা নিজেদের অবহেলিত মনে করে। প্রতিটি বাবা মায়ের উচিত শিশুদের সাথে সহনশীল হওয়া। তাহলে শিশুরাও সহনশীল ও ধৈর্য্যশীল হবে।

অভিমানী শিশু; Source: The Independent

শিশুরা ভালবাসা পেতে ভালবাসে, ধিক্কার কিংবা ঘৃণা নয়। তারা কোনো কাজ না পারলে, বেশি আবেগ দেখালে, অধিক সময় ধরে কোনো কিছুর জন্য বায়না ধরলে অনেক বাবা মা রেগে যান এবং জনসম্মুখে শিশুকে প্রহার করেন। এ বিষয়গুলো শিশুর মনে নেতিবাচক ধারণার জন্ম দেয়। তাই এধরনের আচরণ থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। জেনে নিন অভিভাবকেরা যেসব ভুল করে সেগুলো সম্পর্কে।

জনসম্মুখে শাসন
করা

শিশুরা দূরন্ত হয়ে থাকে। তাদের নিয়ে কোথাও গেলে কিংবা শপিং এ গেলে তারা বাবা মায়ের হাত ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যেতে যায়। নিজের মতো হাঁটতে থাকে, খেলতে থাকে। যার ফলে দেখা যায় সামান্য অসচেতনতার কারণে তারা হারিয়ে যায়। বিষয়টি মোটেও কাঙ্ক্ষিত নয়। তবে শিশুরা বাইরে গিয়ে অনেক দুষ্টুমি করলে, দূরন্তপনা করলে জনসম্মুখে তাকে শাসন করা উচিত নয়।

প্রকাশ্যে শাসন; Source: Parents Magazine

এতে শিশুদের কোমল মন দুঃখ পায়। আপনি শিশুকে অবশ্যই শাসন করবেন। তবে কারো সামনে নয়। শিশুকে নির্জনে এনে বুঝিয়ে বলুন আপনি যা বলতে চান। তাহলে সে কষ্ট পাবেন না এবং অপমানিত বোধ করবে না। শিশুদেরও অপমানবোধ আছে। তাদের মনোবল রয়েছে। তাই এমন কিছু বলবেন না যেন তাদের মনোবল ভেঙ্গে যায়।

অস্পষ্ট নির্দেশ
প্রদান করা

আপনার শিশু সন্তানকে অস্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করবেন না। কারণ তারা বুঝবে না আপনি অস্পষ্ট কথা দিয়ে যা বোঝাতে চান। তাই শিশুকে সুনির্দিষ্টভাবে নির্দেশ প্রদান করুন। নয়তো সে ভুলভাল কাজ করবে এবং আপনার রাগের মাত্রা আরো বেড়ে যাবে। আপনি যদি তাকে বলেন ফ্লোরে জ্যাকেট ফেলো না তাহলে সে নাও বুঝতে পারে। তাকে বলুন ফ্লোরে জ্যাকেট না ফেলে ওয়ার্ডড্রোবে গুছিয়ে রেখে দিতে।

শিশুকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ; Source: Today’s Parent

আপনি যদি বলেন ওখান থেকে কৌটাটি নিয়ে আসো। তাহলে শিশু কিছুতেই বুঝবে না কোত্থেকে কৌটা আনবে। আপনি তাকে বলুন মিটসেফ থেকে কৌটাটি নিয়ে আসো। তাহলে সে ঠিকভাবে আপনার আদেশ পালন করতে পারবে। আপনি যদি তাকে পড়ার নির্দেশ দেন তাহলে কোন বিষয় কতটুকু পড়বে তার নির্দেশ দিন। তাহলে সে সঠিকভাবে সব সম্পন্ন করতে পারবে।

প্রশংসনীয় কাজের
জন্য পুরস্কৃত না করা

আপনার সন্তান যদি
ভালো কাজ করে, আপনাকে খুশি করার চেষ্টা করে তাহলে তাকে বাহবা দিন। প্রশংসনীয় কাজের
জন্য তাকে পুরস্কৃত করুন। তাহলে সে উৎসাহ পাবে এবং ভবিষ্যতে ভালো করবে। আপনার
উৎসাহ, প্রশংসা না পেলে সে তার উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে। আপনি যদি তাকে কোনো প্রতিজ্ঞা
করেন, তাহলে সে প্রতিজ্ঞা রাখার চেষ্টা করুন। কারণ প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করলে সে অভিমান
করবে এবং কষ্ট পাবে।

শিশুর ক্ষুধা
লাগাকে গুরুত্ব না দেয়া

কোথাও বেড়াতে গেলে অথবা বাসায় থাকলেও শিশুর ক্ষুধা লাগার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিন। কারণ ক্ষুধা লাগলে শিশুরা শান্ত থাকে না। তারা কান্না জুড়ে দেয় এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। শপিং করতে গেলে যদি শিশু কান্না জুড়ে দেয়, আপনার জামা ধরে টানাটানি করে তাহলে আপনি শান্তিতে শপিং করতে পারবেন না।

ক্ষুধার্ত শিশু; Source: Twitter

তাই শিশুর ক্ষুধা লাগলে তাকে প্রথমে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করুন। তার কথার গুরুত্ব প্রদান করুন। আপনার যদি ক্ষুধা পায় তাহলে আপনিও কিন্তু ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলবেন।

অতিরিক্ত বকাঝকা

শিশু যদি ভুল করে তাহলে তাকে অতিরিক্ত বকাঝকা করবেন না। হতে পারে তার হাত থেকে গ্লাস পড়ে গিয়ে ভেঙ্গে গেছে। তার মানে এই নয় যে দীর্ঘসময় ধরে তাকে শাসাতে হবে এবং ঝাড়ি দিতে হবে। আপনি বরং তাকে বুঝিয়ে কিছু কথা বলতে পারেন। অতিরিক্ত বকাঝকা করলে শিশুরা নিজেদের নিরাপদ ভাবে না। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।

সন্তানকে লজ্জায়
ফেলা

আপনি যদি কোনো কথায় বা কাজে সন্তানকে লজ্জায় ফেলেন তাহলে তার মন খারাপ হবে এবং তার বুকের ভেতর চাপা কষ্ট জমে থাকবে। ধরুন জারা ও রাহা দুই বোন। জারা পড়াশোনা ও খেলাধুলায় ভালো। আর রাহা পড়াশোনা খেলাধুলায় জারার মতো ভালো না। তাহলে জারার সাপেক্ষে রাহাকে কখনো তুলনা করবেন না।

মনে আঘাত প্রাপ্ত শিশু; Source: Young Parents

তুলনা করলে অপেক্ষাকৃত কম পারদর্শীর ব্যক্তিত্বে আঘাত লাগে এবং তার মনোবল নষ্ট হয়ে যায়। প্রায় প্রতিটি পরিবারের অভিভাবকেরা এই ভুল করে থাকে। তারা নিজেরাও জানে না এটি সন্তানকে কতটা কষ্ট দেয়।

শিশুকে প্রহার
করা

আপনার হয়তো রাগ একটু বেশি। তাই বলে সেই রাগ সন্তানের ওপর ঝাড়া কোনোভাবেই সঠিক নয়। সন্তানের গায়ে হাত তোলা উচিত নয়। কেননা সন্তান তা সইতে পারবে না। সন্তান যদি বড় ধরনের ভুলও করে, তবুও তাকে অতিরিক্ত শাসন করা যাবে না। এতে বাবা মায়ের প্রতি সন্তান অসন্তুষ্ট থাকে।

প্রায় যদি সামান্য ভুলের জন্য আপনার কাছ থেকে চড়, থাপ্পড় খায় তাহলে সন্তান অনিরাপত্তায় ভুগবে না তো কী করবে! প্রহার করলে মানসিকভাবেও শিশু ভেঙ্গে পড়বে। সে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে বড় হবে। এক সময়ে সে হয়তো বড় কোনো ভুল করে ফেলতে পারে।

Featured Image Source: Parenting


লেখক – Rikta Richi

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here