“মেঘের কোলে রোদ হেসেছে বাদল গেছে টুটি

 আজ আমাদের ছুটি ও ভাই আজ আমাদের ছুটি”

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছুটি কবিতায় ছুটির দিনের মাহাত্ম্যের কথা দারুণভাবে বর্ণনা করেছেন। সারা মাস কিংবা সারা সপ্তাহ পড়ালেখা করার ফাঁকে সন্তানেরা যখন একদিন ছুটি পায় তখন তাদের আনন্দের সীমা থাকে না। তারা মনের আনন্দে ছুটির দিনগুলোতে নিজেকে রাঙাতে চায়। একটু ছুটোছুটিতে ব্যস্ত হতে চায়।

স্বভাবসুলভ আনন্দ; Source: The Travel Expert

নিজের মতো নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে চায়। আপনি যদি তাদের সাথে সময় কাটান তাহলে শিশুদের ছুটির দিনগুলোকে আরো বেশি রঙিন ও মধুময় করে তুলতে পারেন। আপনি নিজেও বেশ আনন্দ পাবেন এবং তাদের কাছেও বেশ ভালো লাগবে।

ছুটির দিনগুলোকে আরো রঙিন ও মধুময় করে তুলতে পারেন বেশ কিছু কার্যক্রমের মাধ্যমে। জেনে নিন সন্তানের সাথে কাটানো ছুটির দিনগুলোকে যেভাবে মধুময় করে তুলবেন তা সম্পর্কে।

ছুটির দিন যেভাবে
কাটাবেন তার রুটিন তৈরি করুন

আপনার সন্তানকে নিয়ে যদি মধুর ভাবে ছুটির দিন কাটাতে চান তাহলে তা আগে থেকে তালিকাবদ্ধ করে রাখতে পারেন। অনেক শিশুরা বিদ্যালয়ের রুটিনের সাথে বেশ অভ্যস্ত হয়ে যায়। তাই ছুটির দিনের কর্মতালিকার রুটিন তাদের কাছে ভালো লাগবে। প্রতিটি জিনিসের নির্দিষ্ট নিয়ম থাকা উচিত।

আর সন্তানকে যদি শৃঙ্খলা শেখাতে চান, সন্তানের মাঝে যদি গোছানো মনোভাব সৃষ্টি করতে চান তাহলে ছুটির দিনের কর্মতালিকা প্রস্তুত করতে পারেন। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু না হলেও এতে কোনো ক্ষতি নেই। বরং ছুটির দিনে কখন কী করবেন তার একটি তালিকা প্রস্তুত করা থাকলে কোন কাজ আগে করবেন এবং কোনটি পরে করবেন তা নিয়ে  আর সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে হবে না।

বিশ্রাম ও
স্বাস্থ্যকর খাবার চাই ই চাই

যেহেতু আপনার
সন্তান সপ্তাহব্যাপী ব্যস্ত থাকে, ছুটির দিনে তার অবশ্যই পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া
উচিত। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম শিশুর শারীরিক সুস্থতা এবং মানসিক বিকাশের জন্য
সহায়ক হবে। তাই ছুটির দিনে শিশুর পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের সুযোগ দিন।

বিশ্রামের
পাশাপাশি ছুটির দিনে আপনি সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি করতে পারেন।
বিকেলের স্ন্যাকস কিংবা সন্ধ্যার নাস্তা বানানোর সময় সন্তানকে দিয়ে ছোট ছোট কাজ
করাতে পারেন। এভাবে শিশুর মাঝে ঘরের কাজের প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে।

স্ক্রিনে নয়,
বেশি সময় কাটান বাহ্যিক খেলাধুলায়

ছুটির দিনগুলোতে আপনার সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাইরের পরিবেশে বেশি সময় কাটান। এতে তাদের মন সতেজ থাকবে। অনেক শিশুরা ঘরের কোণে মোবাইল ও ট্যাব নিয়ে বসে থাকে, কেউ আবার টেলিভিশনের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কার্টুন দেখে।

শিশুদের ছুটোছুটি; Source: Stay at Home Mum

এভাবে সারাক্ষণ যদি আপনার সন্তান স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে তাহলে অল্প দিনেই তাদের চোখের নানা সমস্যা দেখা দিবে এবং মাথাধরা সহ সাইনাসের সমস্যা দেখা দেবে। তাছাড়া সারাদিন ঘরে বসে থাকলে শিশুর ওজন বৃদ্ধি পাবে এবং ধীরে ধীরে সে স্থূলাকার হয়ে যাবে। তাই অন্তত ছুটির দিনগুলোতে তাকে নিয়ে বাইরের পরিবেশে ঘুরে বেড়ান।

আপনি সন্তানকে
ফুটবল খেলায়, ক্রিকেট খেলায় উৎসাহিত করতে পারেন। অথবা সাইকেল চালানোয় উৎসাহিত করতে
পারেন। সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে দূরের কোনো সবুজ পার্কে চলে যেতে পারেন এবং সবুজ
উদ্ভিদের সাথে তার পরিচয় ঘটাতে পারেন। কারণ শিশুরা অনেক কাছের নাম জানে না। তাই
তারা যদি নতুন নতুন গাছের নাম জানতে পারে তাহলে বেশ উপভোগ করবে।

প্রত্যেকের সঙ্গে
আলাদা সময় ব্যয় করুন

আপনার যদি একাধিক সন্তান থাকে তাহলে তাদের সঙ্গে আলাদা সময় ব্যয় করুন। আপনার বড় সন্তান যদি ছোট সন্তানকে অবহেলা করে কিংবা বকা দেয়, মারধর করে, তাহলে দুজনের সঙ্গে আপনি আলাদা আলাদাভাবে সময় কাটাতে পারেন।

পিতা ও কন্যার সময় কাটানো; Source: NYU Steinhardt

একদিন এক সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে বেরোতে পারেন, অন্যদিন অপর সন্তানকে নিয়ে যেতে পারেন। গবেষকরা মনে করেন, ওয়ান বাই ওয়ান তথা একজন একজন করে সময় কাটালে সম্পর্কের গভীরতা বাড়ে। তাছাড়া দুজন দুজনের প্রতি মনোযোগ ও আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়।

উৎসব অনুষ্ঠানে
সক্রিয় থাকুন

যেকোনো উৎসব অনুষ্ঠানে আপনি আপনার সন্তানদের সাথে সক্রিয় থাকুন। তাদের নিয়ে মজা করুন, ঘুরতে যান, আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে যান। সন্তানদের সময়গুলোকে আনন্দময় করে তুলুন। আপনার আত্মীয়দের আপনার বাসায় দাওয়াত দিন এবং সকলে মিলে আন্তরিক ও উৎসবমুখর সময় ব্যয় করুন।

আত্মীয়দের সাথে আনন্দমুখর সময়; Source: syn.org.au

দেখবেন আপনার এবং আপনার সন্তানদের সময় বেশ ভালো কাটবে। এছাড়া সন্তানদের মাঝে আত্মীয়দের প্রতি সম্মান, শ্রদ্ধা বাড়বে। তাদের মাঝে সামাজিকতা বৃদ্ধি পাবে।

সৃজনশীল কাজ

আপনার সন্তান যদি ভালো গিটার বাজাতে পারে কিংবা তার যদি গিটার বাজানোর প্রতি প্রচুর আগ্রহ থাকে তাহলে ছুটির দিনে তাকে সেটি শিখতে নিয়ে যেতে পারেন। আপনার বাসায় কোনো অতিথি এলে তাদের সামনে সন্তানকে গিটার বাজাতে বলতে পারেন।

এভাবে তার ভয়, সংকোচ দূর হবে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়বে। আপনার সন্তান যদি ভালো গান গায়, ছড়া ও কবিতা আবৃত্তি করে তাহলে ছুটির দিনগুলোকে আরো মধুময় করতে তাদের কাছে ছড়া, কবিতা ও গান শুনতে পারেন।

জ্ঞানচর্চা চাই ই
চাই

শেখার কোনো বয়স নেই। প্রতিটা সময় মানুষকে শিখতে হয়। বাবা মাকেও অনেক কিছু শিখতে হয় রোজ। তাই ছুটির দিনে সন্তানকে সঙ্গে আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। বেশি বেশি তথ্যমূলক বই পড়ে তা সন্তানের সাথে শেয়ার করতে পারেন।

শিশুর বই পড়া; Source: Alexandria Library Software

আপনি যদি বই পড়ুয়া হন, তাহলে আপনার সন্তানও বই পড়ার প্রতি আগ্রহী হবে। সন্তানকে বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পারেন। মোটকথা ছুটির দিনকে অর্থপূর্ণ কাজে ব্যয় করুন।

Featured Image Source: Mind Your Bees and Trees

লেখক – Rikta Richi

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here