সন্তান জন্মদানের পর বাবা মাকে অনেক সচেতন থাকতে হয়। সন্তান জন্মদানের আগে নিজের প্রতি এবং পরিবারের প্রতি অতোটা যত্নশীল না হলেও চালিয়ে নেওয়া যায় কিন্তু সন্তান জন্মদানের পর নিজের প্রতি এবং সন্তানের প্রতি অনেক যত্নশীল হতে হয়। সন্তানের প্রতি অনেক দায়িত্ব থাকে। তাকে সুষ্ঠুভাবে বড় করে তোলা সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আপনার কোন অভ্যাসটির কারণে সন্তানের ক্ষতি হচ্ছে অথবা সন্তান কষ্ট পাচ্ছে সে অভ্যাসগুলোর ব্যাপারে আপনার ভাবা উচিত।

এমনকি এগুলো চিরতরে ত্যাগ করা উচিত। কেননা সন্তান আপনাকে দেখে শিখবে। আপনার খারাপ অভ্যাস সন্তানের উপর অতিমাত্রায় প্রভাব ফেলবে। আপনি যদি সন্তানকে নিরাপদ পরিবেশে সঠিক মূল্যবোধের মধ্যে দিয়ে বড় করতে চান তাহলে নেতিবাচক অভ্যাসগুলো পরিত্যাগ না করলে তা সম্ভব হবে না। তাই জেনে নিন সন্তানের সুস্থতার জন্য আজ থেকে যেসব অভ্যাস পরিত্যাগ করবেন তা সম্পর্কে।

ধূমপান

বাবা মায়ের সবচেয়ে নেতিবাচক যেসব অভ্যাস রয়েছে সেগুলোর মধ্যে ধূমপান অন্যতম। ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এটি শুধু ধূমপায়ীদের জন্য ক্ষতিকর তা নয়, আশেপাশের সকল ব্যক্তির জন্য ক্ষতিকর। ধূমপান করলে নিউমোনিয়া জনিত সমস্যা হয়। এমনকি লিভার ও কিডনিতে নানা ধরনের সমস্যাসহ লিভার সিরোসিস এবং ক্যান্সারও হতে পারে।

সন্তানের সামনে ধূমপান; Source: Zee News

শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ধোঁয়া খুব ক্ষতিকর। আপনি যদি আপনার সন্তানের সামনে ধূমপান করেন তাহলে তার ভেতরে নিকোটিন প্রবেশ করবে এবং আপনার অজান্তেই নিকোটিন আপনার আদরের সন্তানের ক্ষতি করবে প্রতিনিয়ত। শিশুদের ফুসফুস সুগঠিত হবে না এবং সুগঠিত ফুসফুস ছাড়া শিশু দ্রুত অসুস্থ হয়ে যাবে। সিগেরেটের নিকোটিন আপনার সন্তানের ফুসফুস ও হার্ট দূর্বল করবে এবং শিশুর হাঁপানি হতে পারে।

অ্যালকোহল

সন্তানের সুস্থতার জন্য এবং সুন্দরভাবে সন্তানকে বেড়ে তোলার জন্য অ্যালকোহল পানের অভ্যাস আজ থেকে ত্যাগ করুন। যদিও সামাজিকভাবে সামান্য অ্যালকোহল গ্রহণ করা দোষের কিছু নয়, তবুও সন্তানের সামনে তা না পান করা উত্তম। কারণ সন্তান আপনাকে দেখে শিখবে। শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। তারা সবচেয়ে বেশি অনুসরণ ও অনুকরণ করে বাবা মাকে।

অ্যালকোহল; Source: aifs.gov.au

তাই অ্যালকোহল পরিত্যাগ করা শ্রেয়। তাছাড়া আপনি যদি মদ বা বিয়ার খেয়ে উত্তেজিত হয়ে সবার সাথে রাগারাগি করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন তাহলে আপনার সন্তানও সেটি আপনার কাছ থেকে শিখবে। পরবর্তীতে সে রেগে গিয়ে এসব ভাষা অন্যদের দিকে ছুঁড়ে মারবে। আপনার কিশোর বয়সী সন্তান যদি আপনাকে মাতাল অবস্থায় দেখে তাহলে সে অ্যালকোহলের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করবে।

ড্রাগস

ধূমপান, অ্যালকোহল পান করার মতো ড্রাগস নেওয়া অত্যন্ত নেতিবাচক অভ্যাস। ড্রাগস অতিশয় খারাপ অভ্যাস। আপনি যদি সন্তানের সামনে ড্রাগস নেন তাহলে আপনার কাছে সন্তান কি শিখবে? ড্রাগস যারা নেয় তারা মানসিকভাবে খুব খারাপ অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যায়। তারা অন্যদেরকে অকথ্য ভাষায় গালি দেয়, অন্যের গায়ে হাত তোলে এবং ঘরে অশান্তি সৃষ্টি করে।

ড্রাগস; Source: parenting.firstcry.com

আপনার কাছে আপনার সন্তান ভালো ব্যবহার, আদর ও ভালোবাসা প্রত্যাশা করে। আপনি যদি আপনার সন্তানের সামনে খারাপ আচরণ করেন তাহলে আপনার প্রতি সন্তানের সম্মান ও শ্রদ্ধার জায়গাটুকু নষ্ট হয়ে যাবে। আপনাকে সন্তান খারাপ চোখে দেখবে।

টেলিভিশন দেখা

আপনার সন্তানকে কিছু সীমাবদ্ধতা বেঁধে দেওয়ার আগে আপনি আপনার অভ্যাস ত্যাগ করুন। অনেকেই আছেন যারা সন্তানকে টেলিভিশন দেখার মধ্যে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে তারা নিজেরাই সারাদিন বসে টেলিভিশন দেখে। আপনি যদি সারাদিন টেলিভিশন দেখেন তাহলে আপনার সন্তানের মধ্যেও এ প্রবণতা দেখা দেবে।

টেলিভিশন দেখা; Source: Clinical Advisor

আধুনিক এই সময়ে মানুষ প্রচণ্ডভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করছে। মা বাবা সারাক্ষণ মোবাইল, ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তাদের দেখে সন্তানেরাও মোবাইলের প্রতি আসক্ত হয়ে যায়। তাই সন্তানকে শেখানোর আগে নিজের মধ্যে পরিবর্তন নিয়ে আসুন।

অতিরিক্ত
চেঁচামেচি

অভিভাবকদের একটি বড় অভ্যাস হলো তারা সন্তানদের সাথে অতিরিক্ত রাগারাগি ও চেঁচামেচি করে। অতিরিক্ত রাগারাগি কখনো সমাধান বয়ে আনতে পারে না। এগুলো শিশুর জন্য ক্ষতিকর। শিশুরা প্রচণ্ড আবেগী। তারা অতিরিক্ত রাগারাগি দেখে ভয় পেয়ে যায়। চেঁচামেচির পরিবর্তে আপনি সন্তানকে বুঝিয়ে বলুন কোথায় তার ভুল হচ্ছে, আপনি তার কাছে কী প্রত্যাশা করেন। নয়তো আপনার সন্তান হতাশায় ভুগবে, অনিরাপত্তায় ভুগবে।

শিশুর গায়ে হাত
তোলা

আপনার যদি শিশুর গায়ে হাত তোলার অভ্যাস থাকে তাহলে আজ থেকে তা দূর করুন। শিশুর গায়ে হাত তুললে শিশু মানসিকভাবে আঘাত পাবে এবং সে আপনাকে সর্বদা ভয় পাবে।

শিশুর গায়ে হাত তোলা; Source: parenting.firstcry.com

শিশুকে থাপ্পড় দেয়া, বেতের আঘাত করা তার শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত করার পাশাপাশি মানসিকভাবে ভেঙ্গে দেয়। শিশু সর্বদা অনিরাপত্তায় ভোগে এবং নিজের জন্মকে নিছক ও অর্থহীন ভাবে। তাই সন্তানের গায়ে হাত তোলা বন্ধ করুন।

নিরুৎসাহিত করা

ভালো কাজের জন্য সন্তানকে প্রশংসা করলে, উৎসাহিত করলে সন্তান যেমন আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় তেমনি শিশুর কোনো কাজকে অবমূল্যায়ন করলে, নিরুৎসাহিত করলে সন্তানের আত্মবিশ্বাস ভেঙ্গে যায়। তাদের মনোবল ভেঙ্গে দেয়ার জন্য অবমুল্যায়ন করা যথেষ্ট।

নিরুৎসাহিত করলে শিশুর উপর শারীরিক প্রভাব না পড়লেও মানসিক প্রভাব পড়ে দারুণভাবে। শিশু যদি অভিভাবকের কাছ থেকে উৎসাহ না পায় তাহলে সে পড়াশোনা, ছবি আঁকা এবং অন্যান্য কাজে ভালো করবে না। নতুন কিছু করার আগ্রহ জন্মাবে না।

অন্যের নামে
সমালোচনা

অনেকগুলো নেতিবাচক অভ্যাসের মধ্যে একটি হলো অন্যের নামে সমালোচনা করা। অনেক অভিভাবকের অভ্যাস অন্যদের দিয়ে সমালোচনা, অন্যের দোষ ধরা ইত্যাদি। এগুলো সন্তানের সামনে করলে সন্তানও সেগুলো শিখবে।

Featured Image Source: Sharon Turton

লেখক – Rikta Richi

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here